20150905_ASP001_0ইন্টারনেটের সুবাধে দিন দিন সব কিছু বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে মানুষের রীতি নীতি আচার আচরণ। বদলে যাচ্ছে বিয়ের ধরনও। পরিবার ও বাবা মায়ের পছন্দ করার যে প্রচলিত নিয়ম ভারতীয় উপমহাদেশে বিরাজমান ছিল তা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

ভারতের ৯০-৯৫ শতাংশ হিন্দু পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে যৌতুক প্রদান করার নীতি ছিল। এই চিরাচরিত প্রথা ভেঙ্গে ছেলে মেয়েরা নিজেদের পছন্দের জীবন সঙ্গী বেছে নিচ্ছেন। নিজের ধর্ম ও জাতি গোষ্ঠীর মধ্যেই বিয়ে করতে হবে এই প্রথাও এখন আর কার্যকর নেই ভারতের হিন্দু পরিবারের মধ্যে।

সাধারণত ভারতের মেয়েদের ২০ বছরের মধ্যেই বিয়ের পিঁড়িতে বসে হয়। যথারীতি আয়োজন করে বিয়ের অনুষ্ঠানের রীতি কমছে দিন দিন। আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে প্রভাবিত হচ্ছে ছেলে মেয়েরা। বলিউডের সিনেমার কায়দায় ছেলে মেয়েরা নিজের বিয়ের সঙ্গী নিজেই ঠিক করছে। এখানে মানা হচ্ছে না ধর্মীয় কোন রীতি নীতি। বিভিন্ন ধর্মের ছেলে মেয়েরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে।

ভারতের মুম্বাইয়ের বিয়ের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট সাদি ডটকম। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের লাখ লাখ পাত্র পাত্রী নিজের জীবন সঙ্গী বাছাই করছে। এখানে তাদের পিতা-মাতার পছন্দের গুরুত্ব নেই। সাদি ডটকম’এর স্বত্বাধিকারী গৌরব রক্ষিত জানান, নিজেদের জীবনের সঙ্গী ও সঙ্গিনী খুঁজতে বাবা- মায়ের সহায়তা নেয় না ছেলে মেয়েরা।

গৌরব আরো জানান, পাত্র-পাত্রীরা পরিবারের সদস্য হিসেবে বাবা, মা, ভাইয়ের সহায়তার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করে না। প্রতিদিন স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ১২-১৫ হাজার পাত্র-পাত্রী সাইন আপ করে এই ওয়েবসাইটে। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ অবিবাহিত ছেলে মেয়ে।

২০১৩ সালের বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় ১১ শতাংশ শিক্ষিত পাত্র-পাত্রী নিজের পছন্দ মোতাবেক বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এপ্লাইড ইকোনোমিক রিসার্চের একটি দল ২০১১-২০১২ সালে একটি জরিপ চালায়। জরিপে দেখা যায়, দেশটির ৭৭ শতাংশ নারী নিজের পছন্দ মোতাবেক বিয়ে করে।

ভারতের এক বৃদ্ধার কাছে নিজের পছন্দের বিয়ে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শহরের মেয়েরা জানে কিভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয় অপর দিকে গ্রামের মেয়েরা জানে কিভাবে শ্বশর-শ্বাশুরির সেবা করতে হয়।

এমএসএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *