বিপর্যস্ত রেশম শিল্প

a6595e27682b3d5c53ee89cf4e540f3e-0045963198602425F9707540-300x262একসময়ের রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল বহু মানুষের জীবন-জীবিকা। বর্তমানে অবহেলা ও উন্মুক্ত বাণিজ্যের প্রভাবে বিদেশী সূতার বাজার দখলে বদলে গেছে রেশম শিল্পীদের জীবন। তাদের মধ্যে ভর করেছে হতাশা।

একটা সময় রাজশাহীর চারঘাট, বাঘা, মীরগজ্ঞ এলাকায় রমরমা ছিল রেশম চাষ। পোকা পালন থেকে গুটি উৎপাদন, গুটি থেকে সূতা, সূতা থেকে কাপড় বোনার সব কাজই করতো চাষীরা। কিন্তু এখন সরকারের পৃষ্টপোষকতা ও ন্যায্যমূল্যের অভাবে রেশম চাষের চরম অবনতি ঘটেছে।

রেশম চাষীরা বলেন,আগে প্রচুর বিক্রি থাকলেও সেই সুদিন আর নেই। তবে চাষ করা এখোনো ধরে রেখেছি, যদি ফিরে আসে পূর্বের অবস্থা। রেশম শিল্পের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগে রেশম কারখানা চালুর দাবি জানিয়েছেন রেশম শিল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিগণ।

রাজশাহী অঞ্চলে উৎপাদিত রেশম গুটি ও সূতার একমাত্র ক্রেতা সপুরা শিল্পের মালিক সদর আলি দাবি করেন, উৎপাদিত গুটি মানসম্পন্ন নয়, যার ফলে পর্যাপ্ত সূতা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। চায়না থেকে আমদানি করতে হচ্ছে সূতা। তিনি বলেন,“গুটি তৈরির করতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার ও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সূতা উৎপাদনে নতুনত্ব আনলে আমরা পুনরায় ফিরে আসতে পারব।

গবেষকরা জানান,বর্তমানে রেশম গবেষনা ইনস্টিটিউটে ভাল তুতঁ ও পোকার জাত উৎপাদিত হলে ও তার সুফল পাচ্ছে না চাষীরা। রেশম গবেষক অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, অনেক ভাল জাতের পোকা থাকা সত্ত্বেও তার ব্যবহার হচ্ছে না।

বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার পরিচালক ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী জানান, ক্রেতাদের মধ্যে আসল রাজসাহীর সিল্ক নিয়ে দ্বিধা কাজ করায় বাজারে চাহিদা কমে গেছে। ফলে বেসরকারী উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছে।

এদিকে বন্ধ রেশম কারখানা চালু করতে সরকারের সদিচ্ছা আছে বলে জানান রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আনিসুল হক ভুঁইয়া। রাজশাহীতে বর্তমানে সূতার বার্ষিক চাহিদা ২৬০ মেট্রিক টন। আর সারাদেশে ৩৬০ টন। যেখানে উৎপাদন হচ্ছে মাএ ৪০ মেট্রিক টন।

পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে দেশীয় চাহিদা মেটানো ছাড়া ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এ সম্ভাবনাময় শিল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *