খালেদার সংলাপ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাখান

aaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaa-300x300তুহিন সরকার : রাজনৈতিক সংকট নিরসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংলাপের আহবান প্রত্যাখান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই’ এ ঘোষণা দিলে তিনি খালেদার সঙ্গে সংলাপে বসার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। নেদারল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরে রোববার গণভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দয়া করে খুনীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বলবেন না। ওনার (বেগম খালেদা) কাছে গেলে, বসলে পোড়া মানুষের গন্ধ পাব। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন বানচাল করতে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ আনেন বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওনার (খালেদা) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে গিয়ে ‘ঝারি’ খেতে হয়েছে। ওনার ছেলে মারা যাওয়ার পর বাড়িতে গেলে মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যখন জাতির প্রয়োজন ছিল সেই নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার গঠন ও যে কোনো মন্ত্রণালয় দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম কিন্তু উনি নির্বাচন বানচাল করতে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। এধরনের একটা খুনীর সাথে বসতে হবে! সংলাপে বসার যোগ্যতা উনি তখনই অর্জন করবেন যখন বলবেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উনি আমাকে কি নামে অভিহিত করেছেন, আবার সংলাপেও বসতে চান। লন্ডনে বসে গুণধর পুত্রের সঙ্গে ঘোট পাকাচ্ছেন। তিনি বলেন, রাজনীতির স্বার্থে ও দেশের স্বার্থে ওনার কাছে নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিলাম।

সাংবাদিক, লেখক, প্রকাশক ব্লগারদের লেখার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই দেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ আমরা সেক্যুলার মেন্টালিটির মানুষ। কিন্তু সেক্যুলার মানে অন্য ধর্মকে আঘাত করা নয়। আমরা সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কিন্তু কারো ধর্ম বিশ্বাসে আঘাত করার পক্ষপাতি না। আমি নিজে মুসলমান। আমি আল্লাহ রাসুলকে বিশ্বাস করি। তাই ইসলামকে নিয়ে কোন কটুমন্তব্য ধর্মকে কটাক্ষ করে বিকৃতভাবে কিছু লিখলে সেটা অবশ্যই আমাকে আঘাত করবে।

প্রধানমন্ত্রী রোববার সকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি বলেন, মুসলমানদের যেমন তেমনি খ্রিষ্টান হিন্দু, বৌদ্ধ ধর্মকে নিয়ে বিকৃত মন্তব্য করলে তারাও এটাতে আঘাত পাবে। আপনি কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন বা কোন ধর্মেই বিশ্বাস না করেন সেই বিশ্বাস আপনার নিজের কাছেই রাখুন। আপনাদের লিখতে মানা করা হয় নি। কিন্তু কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কিছু লিখবেন না। লেখার ব্যাপারে সতর্ক হবার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি জামায়াত থেকে আ’লীগে যোগদান নয়

বিএনপি-জামায়াত থেকে আর আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া যাবে না। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি জামায়াত থেকে বেশ কিছু কর্মীকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে দেখা গেছে। রোববার নেদারল্যান্ডসে সাম্প্রতিক সফর নিয়ে গণভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি জামায়াত থেকে যারা আমার দলে আসতে চায়, তাদের আমরা নেব না,”।

গত বছরের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের অন্তত ২০ হাজার নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে এসেছে। বলা হচ্ছে, কেবল জামায়াত থেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে ৫ হাজার কর্মী। ভিন্ন দল থেকে ভেড়ানোর জন্য নিজের দলের নেতাদেরই দায়ী করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

দলীয় নেতাদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে অন্তঃদ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীতে দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করে। “আওয়ামী লীগের লোক মারা গেলেই শুধু কোনো অসুবিধা নেই। তারা ভালো সেজে ঢুকেই হত্যা করে।”

২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের রোকন নওশের আলী স্থানীয় যুবলীগ আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের হাতে ফুল দিয়ে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেন।

২০১৪ সালের মার্চের শুরুর দিকে পাবনায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের উপস্থিতিতে দুই শতাধিক কর্মীসহ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এক ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমির।

গত বছরের এপ্রিলে ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলা জামায়াতের সাবেক সভাপতি আবু বক্কর খান শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

চলতি বছরের ১২ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা আফজাল হোসেন পিন্টু আওয়ামী লীগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

গত ৬ জুন জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদুর উপস্থিতিতে পাঁচবিবি উপজেলা জামায়াতের মজলিসে শূরার সদস্য আব্দুস সালামের নেতৃত্বে বিএনপি ও জামায়াতের ৫ শতাধিক নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘোষণা দেয়।

১০ এপ্রিল রাজশাহীর বাগমারায় আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে ফুল দিয়ে উপজেলা জামায়াতের প্রাক্তন সেক্রেটারি এবং ভবানীগঞ্জ মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম শতাধিক সমর্থক নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

গত ২০ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন সালথার উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান।

১৪ এপ্রিল কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বাংলা বর্ষবরণের এক অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সহস্রাধিক নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

গত ২৪ মে নোয়াখালীতে বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

৯ মে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিএনপি নেত্রী ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রিনা হালিম এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা শরীফ হোসাইনের নেতৃত্বে বিএনপি ও জামায়াতের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেলের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

৫ এপ্রিল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি সাব্বিরুল হক তালুকদার শামীমের নেতৃত্বে বিএনপি ও জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

১৯ এপ্রিল গোপালগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এমএ নাসির আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাউদ্দিনের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *