অপরাধে বৈধ অস্ত্রের ব্যবহার

hqdefault-400x300মোহাম্মাদ জামিল খান : সঠিক পর্যবেক্ষণের অনুপস্থিতিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র অপব্যবহার করা হচ্ছে ছিনতাই এমননিক ডাকাতির মতো অপরাধে। এমনকি হত্যার মতো অপরাধমূলক কর্মকা-ও সংগঠিত হচ্ছে এধরনের বৈধ অস্ত্র দিয়ে। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন অনেক দৃষ্টান্ত আছে, এসব কিছু বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ভাড়ায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে বর্তমানে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের অধিনে বিভিন্ন প্রকারের ২ লাখ ১৭ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন ধরনের ১০টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মন্ত্রণালয়ের কাছে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ কোন তথ্য-উপাত্ত নেই। আর এ কারণেই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম খুবই কম।

এমনকি র‌্যাব এর মতো অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জেলা প্রশাসন অফিসেও এসব আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্য খুবই কম রয়েছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় গত পাঁচ বছরে সাড়ে তিন হাজারের অধিক অভিযোগ পেয়েছে। যেখানে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে অপরাধমূলক কর্মকা- সংগঠিত হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একই বিষয়ে আরও ৫শ’র অধিক অভিযোগ নিবন্ধন করেছে।

এ পাঁচ বছরে সর্বমোট ১৫৬টি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও ৩১৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করেছে।

গত অক্টোবরে গাইবান্ধায় ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতা মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এক শিশুকে গুলি করে।

এপ্রিলে ক্ষমতাসীন দলের আরেক সাংসদ পিন্টু খানের ছেলে রনি ঢাকায় এক রিক্সা চালককে গুলি করে হত্যা করে। সেও তার লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এটা করেছে।

দুই বছর আগে মিল্কি হত্যা মামলার তদন্তে বের হয়ে আসে, প্রধান অভিযুক্তর একটি লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। মজার ব্যাপার হলো, ভুক্তভোগী এবং অভিযুক্ত উভয় পরিবারের সদস্যদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৬ টি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এর সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হলো নারায়ণগঞ্জের সাত খুন। প্রধান অভিযুক্ত নূর হোসেন এবং তার সহযোগীদের লাইসেন্সধারী ৯ টি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

বিদ্যমান আইনে পুলিশের ছাড়পত্র নিয়ে একটি নির্দিষ্ট বয়সের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তিকে ২ লাখ টাকা থেকে শুরু করে বাৎসরিক ট্যাক্স দেয়ার শর্তে যে কাউকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা যায়।

একটি শটগান নিতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই কমপক্ষে ২৫ বছর বয়স্ক হতে হবে। আর রিভলভার, পিস্তল এবং রাইফেলসের জন্য ৩০ বছর বয়স হতে হবে।

অন্যদিকে একজন ব্যক্তি একইসাথে একটি শটগান এবং একটি পিস্তল নেয়ার অনুমতি পেতে পারে। তবে একত্রে একটি শটগান ও একটি রাইফেল নিতে পারবে না।

তথাপি, আশঙ্কাজনক বিষয় হলো কর্তৃপক্ষ এ সম্পর্কে প্রায়ই গাফলতির পরিচয় দিচ্ছে। আর অন্যদিকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতি নাসির আহমেদ বলেন, ‘আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখেছি কর্তৃপক্ষ আইনকে উপেক্ষা করে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করছে। যেমন- কিছু কিছু সময় ট্যাক্স সার্টিফিকেট সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স প্রদান করা হয়।’

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা পর্যায়ের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কয়েকদিনের মধ্যে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং বৈধ অস্ত্রের অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর এবং স্বারষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঢাকা ট্রিবিউন থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *