প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া হল না তাদের

Blogger Ananya Azad ist aus Bangladesch geflohen, da es Morddrohungen gegen ihn gab.ভালবাসা দিবসে পুলিশি পাহারায় প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার এক ইভেন্টের ডাক দিয়ে মাঠে নেই ফেইসবুক ভিক্তিক সংগঠনটির কোনো কর্মী। রোববার সকাল ১১টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ ধরনের স্লোগানের উপর ভিত্তি করে প্রেমিক প্রেমিকাদের প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার জন্যে আহবান করা হয়েছিল। এ আয়োজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী ওলামা লীগ ও হেফাজতে ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারী দেয়। কিন্তু সময় হলে অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে দেখা গেল কোনো প্রেমিক প্রেমিকা প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার জন্যে সেখানে হাজির হয়নি। ছিল পুলিশ। এমনকি কৌতুহলীদের কোনো ভীড় ছিল না সেখানে।

দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা এবিষয়ে কোন রকম কার্যক্রমের খবর পাননি। তবে জার্মানি থেকে কয়েকজন ব্লগার এধরনের আহবান জানালে মিডিয়ায় বেশ হৈ চৈ হয়। ওই পর্যন্তই। কোনো প্রেমিক প্রেমিকা প্রকাশ্যে চুমু খেতে হাজির না হলেও অদূরে টিএসটিস চত্বর থেকে শুরু করে শাহবাগ, রমনা পার্কে, সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে প্রেমিক প্রেমিকারা ফুল বিনিময় করেছে, আলাপচারিতায় মশগুল ছিল। কিন্তু প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার মত কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে এধরনের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিল বেশ তৎপর। সাদা পোশাকে অনেক পুলিশ সদস্যকে সেখানে কর্তব্যরত দেখা যায়। তাদের একজন বলেন, যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তারা সেখানে সতর্ক নজর রাখছেন। শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। বাংলাদেশের ধর্ম ও সংস্কৃতিতে আঘাত লাগে এমন কোনো অনুষ্ঠান বা কোনো ধরনের তৎপরতা যদি কেউ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। গ্রেফতার করব।

তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেশকিছু ফেসবুক ভিত্তিক সংগঠন আছে তারা বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পথশিশুদের ফুল ও চকলেট বিতরণ করতে দেখা যায় ‘উই আর ফ্রেন্ডস’ নামে একটি সংগঠনের কর্মীদের। তাদের হাত থেকে ছিন্নমূল শিশুরা ফুল ও চকলেট পেয়ে আনন্দে উচ্ছসিত হয়ে ওঠে। ভালবাসা দিবস যে শুধু বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় তা তারা পথশিশুদেরও বুঝিয়ে বলেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আগত অনেক কপোত কপোতীদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার মত আচরণের বিষয়টিকে অত্যন্ত দৃষ্টিকটু হিসেবেই নিচ্ছেন। ভালবাসার এধরনের বহি:প্রকাশকে তারা অপসংস্কৃতি বলেও অভিহিত করেন। এমনকি তারা এই ধরনের অনুষ্ঠানকে বাঙালি সংস্কৃতির পরিপন্থি বলে মনে করেন।

শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমরা স্থানটি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছি। পুলিশ সাদা পোশাক ছাড়াও সরাসরি পোশাকে দায়িত্ব পালন করছে। তারা সব রকম ঘটনার দিকে চোখ রাখছে কিন্তু এখনও এরকম কোন ঘটনা ঘটে নাই। যদি তারা আইন শৃঙ্খলা বিরোধী এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতির ও ধর্মীয় আচরণের পরিপন্থি কোন ঘটনা ঘটায় তাহলে আমরা তাদের গ্রেফতার করব।

এদিকে সাধারণ মানুষের ভিড়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল। শাহবাগের মোড়ে ফুলের দোকানগুলোয় কেনাকাটা ছিল ভাল। ফুল কিনে ও বিক্রি করে সবাই ছিল ফুরফুরে মেজাজে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *