৫০ বিলিয়ন ঋণের বোঝায় পাক অর্থনীতি কি টিকতে পারবে?

52dbd6ebb18feপাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উন্নয়ন ও আট বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উচ্চ হওয়া সত্ত্বেও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ত্রুটি থাকায় ঝুঁকিতে রয়েছে দেশটি। বর্তমানে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৪২ শতাংশ। ২০১৬ সালে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এ প্রতিবেদন ব্লুমবার্গের।

পাকিস্তানে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৮.৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। বৈদেশিক বিনিময় গ্রহণে দেশের ২১বিলিয়ন ডলারের ৪০শতাংশ হ্রাস করতে হবে। তবে বকেয়া ঋণের বেশিরভাগ আঞ্চলিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে।

ফিচ রেটিংস লিমিটেডের পাকিস্তান বিষয়ক শীর্ষ বিশ্লেষক মারভিন ট্যাঙ ব্লুমবার্গকে বলেন, পাকিস্তানের সরকারি ঋণের মাত্রা বেশি। আর বেশিরভাগ ঋণ প্রদান করা হয় স্বল্প মেয়াদে।

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নেয় পাকিস্তান। যা দিয়ে পূর্ববর্তী সময়ের অনাদায়ী ঋণ পরিশোধ করা হয় এবং গ্রিসের মতো একটি সংকট এড়ানো হয়। তখন থেকে ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ অভিক্ষিপ্ত ঋণ ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বছরে ঋণ পরিশোধের জন্য ইতোমধ্যে বাজেটের ৭৭ শতাংশ অর্থাৎ ১২৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ বেসরকারিকরণ করে আইএমএফের দাবি পূরণ করা পাকিস্তানের জন্য একটি যুগপৎ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এর বাস্তব স্বাক্ষী পাকিস্তান আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের কর্মচারিদের ধর্মঘট। মাত্র গত সপ্তাহে যে ধর্মঘট শেষ হয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতি পূরণে ২০১৫ সালের নভেম্বরে ৪০বিলিয়ন রুপির নতুন কর দেখানো হয়।

১ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান আইএমএফের সামষ্টিক অর্থনৈতিক কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অন্যদিকে আইএমএফও পাকিস্তানের প্রতি আত্মবিশ্বাসী। মিশনের প্রধান হ্যারেলাড ফিঙ্গার বলেছেন, প্রদত্ত দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে পাকিস্তানের বেশ ভাল পরিবর্তন হয়েছে।

ভয়াবহ দৃষ্টিভঙ্গি সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা বেশ আশাবাদি। ট্যাঙের মতে, পাকিস্তানের বাহ্যিক দায় অপেক্ষাকৃত মাঝামাঝি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিশোধযোগ্য ঋণ পরিশোধের জন্য আইএমএফ সাহায্য করতে প্রস্তুত এবং অর্থনৈতিক করিডোরে চীনের বিনিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাঙ বলেন, প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ছে, কম মুদ্রাস্ফীতি ও ছোট বাজেট ঘাটতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে দেশিয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মূলধনের আরও উড্ডয়ন ও মুদ্রার বহি:প্রবাহ। সেই সাথে রূপির অবমূল্যায়ন ও বিনিময় হারে ওঠানামা। আইএমএফর তথ্য মতে, বর্তমান হারে ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ পর্যন্তও রুপি অতিমূল্যায়িত হয়েছে।

লক্ষন ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের হেড অব ইনভেস্টমেন্ট মুস্তফা পাশা ব্লুমবার্গকে জানান, এ বছরে বিনিয়োগকারীদের বন্ডের প্রতি অনিশ্চিয়তা আশা করা উচিত এবং রুপির ওপর চাপ দেয়া উচিত।

যদিও তেলের মূল্য হ্রাস এক্ষেত্রে সাহায্য করবে তবে ভবিষ্যৎ অস্পষ্ট রয়ে গেছে। ডন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *