বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারতীয় কোম্পানি

300px-Turbogenerator01রাজিব আহসান : বাংলাদেশের বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি প্রস্তুত করেছে ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ‘ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (বিএইচইএল)। আঞ্চলিক দুই দেশ চীন ও ভারতের মধ্যে বিদেশি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে তীব্র দরকষাকষি ও প্রতিযোগিতার পরে এই বৃহত্তম প্রকল্পটির কাজ পেল ভারত। খবর বিজনেস টুডে, বিজনেস স্টান্ডার্ড, ফার্স্ট পোস্ট ও রয়টার্সের।

চীনকে পরাজিত করে এই চুক্তিটি প্রস্তুত করেছে ভারতের বিএইচইএল। শ্রীলঙ্কায় চীনের সফলতার পরে ভারতও বাংলাদেশে সফলতা অর্জন করল। এই সংবাদটি ভারতের কর্মকর্তাদের জন্য আনন্দের। এর মধ্য দিয়ে নিজের অর্জনের পাল্লায় আরো একধাপ এগিয়ে গেল ভারত।

ভারত বাংলাদেশকে ‘স্ট্রিং অব পার্ল’ মনে করে। চীন ভারত মহাসাগরে পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দর থেকে জিবুইতি দিয়ে আফ্রিকার উপকূল পর্যন্ত নৌ নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে। দীর্ঘ দরকষাকষির পর ভারতের ‘ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস’ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা খুলনায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সই করবে। ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।

চীনের হারবিন ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো ইরান, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ায়ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে। টেকনিক্যাল কারণে তারা বাংলাদেশের এই প্রকল্পের কাজ পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের মুখপাত্র আনোয়ারুল আজিম বলেন, যৌথভাবে কয়লা ভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল বিএইচইএল।

এদিকে ভারত সরকারের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ভারত সরকারের বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়ক এক্সিম ব্যাংক বিএইচইএল’কে প্রকল্পের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ অর্থ দিতে রাজি হয়েছে। এধরনের ঋণে সুদ ধরা হয়েছে ১ ভাগ।

ভারতের সরকার এই প্রকল্পের ৭০ শতাংশ বিনিয়োগ করবে। খুলনা প্রকল্প সম্পর্কে এক্সিম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড রাজকুইনহা রয়টার্সকে জানান, এক্সিম এ প্রকল্পকে খুবই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। তার ব্যাংক এই প্রকল্পটিকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। এটি বিদেশের মাটিতে ভারতের বিদ্যুৎ কোম্পানির সবচেয়ে বড় প্রকল্প। ভারত ইতিমধ্যে রুয়ান্ডা ও শ্রীলঙ্কায় অন্য দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। তবে বাংলাদেশের এ প্রকল্প ওই দুটি প্রকল্প থেকে বড়।

চীনের হারবিন কোম্পানি বাংলাদেশে এ প্রকল্প সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে আফটার-সেল সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তা জানান, এই ধরনের প্রকল্পে বিভিন্ন কোম্পানি টেন্ডার জমা দিয়ে থাকে। দরপত্র পাওয়া বা না পাওয়া নিয়ে কোন সংকট বা উদ্বেগের কিছু নেই। এটি সাধারণ একটি বিষয়।

সাম্প্রতিক বছরে ভারত ও চীন আঞ্চলিকভাবে অবকাঠামো উন্নয়নে দরপত্র পাওয়ার লড়াইয়ে মেতেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিবেশি ছোট দেশকে অবহেলা না করে বিনিয়োগ করতে গুরুত্বারোপ করেছেন।

গত বছর বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনে জাপানের সহজ শর্তে ঋণের কারণেই ওই প্রকল্প থেকেও বঞ্চিত হয়েছে চীন। জাপান এই গভীর সমুদ্রবন্দরের ৮০ ভাগ অর্থায়ন করবে। ৮ বিলিয়ন ডলারের দরকষাকষাতে ২৫ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন করার কথা ছিল চীনের।

চুক্তি হতে যাওয়া প্রকল্পে পরিবেশের বিপর্যয় নিয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশ কর্মীরা সতর্ক করে দিয়েছেন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বলেছেন সরকার পরিবেশের কী ধরনের ক্ষতি সাধন হতে পারে তা বিবেচনা না করেই জমি দখলে নিয়েছে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য।

তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনু মুহাম্মদ বলেন, এই প্রকল্প সুন্দরবনের জন্য ধ্বংসাত্মক ও অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করবে। এছাড়া এটি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র ও বাস্তুসংস্থানকে ক্ষতি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *