বিবিসিতেই ৭২ জনকে ধর্ষণ ও নিপীড়ন করেছিলেন স্যাভিল

Jimmy Saville is over the moon after getting his pink spectacles back. they had been stolen from him but where found by the British Transport Police.

ব্রিটেনের নতুন এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখা গেছে খ্যাতনামা সাবেক রেডিও ও টিভি তারকা জিমি স্যাভিল তার বিবিসি কর্মজীবনে ৭২ জনকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করেছিলেন – যাদের অর্ধেকই ছিল শিশু।

বেশ কিছুদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছিল ব্রিটেনে খ্যাতনামা সাবেক রেডিও ও টিভি তারকা জিমি স্যাভিলকে নিয়ে। তার বিরুদ্ধে কিশোরী থেকে শুরু করে অনেক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠতে থাকে। প্রয়াত হলেও তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে নতুন এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখা গেছে খ্যাতনামা সাবেক রেডিও ও টিভি তারকা জিমি স্যাভিল তার বিবিসি কর্মজীবনে অন্তত ৭২ জনকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করেছিলেন – যাদের অর্ধেকই ছিল শিশু।
একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জ্যানেট স্মিথ-এর নেতৃত্বে এই অনুসন্ধান চালানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মি. স্যাভিল যখনই সুযোগ পেয়েছেন বিবিসির অফিসেই এসব যৌন নিপীড়ণ চালিয়েছেন। অফিস কক্ষ থেকে শুরু করে স্টুডিও, গ্রিন রুম, তার বাড়ি বা অন্য কোনো গোপন স্থান যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন তার হাতে শিশু থেকে শুরু করে অনেক সম্ভ্রান্ত নারীকে খোয়াতে হয়েছে ইজ্জত।

সহকর্মীরা তার তারকা খ্যাতিতে এতই ভীত ছিলেন যে তাকে বাধা দেয়া বা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কোনো কিছু অবগত করেতে সাহস পর্যন্ত পাননি। কারণ ব্রিটেনের রাজদরবার থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ, প্রশাসকসহ সর্বত্র তার ছিল অবাধ যাতায়াত।

মি. স্যাভিলের আচরণের ব্যাপারে বিবিসির ওপর গুরুতর ব্যর্থতার দায় চাপিয়েছে সদ্য প্রকাশিত ঐ প্রতিবেদন।
মি. স্যাভিলের মৃত্যুর পর তার ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের চিত্র প্রকাশিত হয় আর নির্যাতিতরা একের পর এক মুখ খুলতে শুরু করেন। এরপর চার বছর ধরে তার বিরুদ্ধে এসব অনুসন্ধানে খরচ হয় ৬৫ লাখ পাউন্ড। অন্তত ১১৭ জন শিশু ও নারীর বিরুদ্ধে অবাধ যৌনতা ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে যাদের তিনি দিনের পর দিন বিকৃত কামনায় বাধ্য করেছিলেন।

বিবিসি অবশ্য এ খবর বেশ সংক্ষিপ্ত করেই প্রকাশ করেছে। ডেইলি মেইল বলছে, ১৯৫৯ সালে জিমি স্যাভিল যখন একটি শিশুকে ধর্ষণ করেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র তের। ২০০৬ সালে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বিবিসির আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট হলের বিরুদ্ধে এধরনের নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে একের পর এক। তিনি বেঁচে আছেন।

তবে পাঁচ দশক ধরে জিমি স্যাভিল এধরনের নারী ও শিশু নির্যাতন চালিয়ে গেলেও অন্তত পাঁচবার সুযোগ পেয়েও বিবিসি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং তাকে ঘিরে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন চক্র গড়ে উঠেছিল বিবিসির কার্যালয়ে। জিমি স্যাভিল আদতে ছিলেন সিরিয়াল রেপিষ্ট বা ধারাবাহিকভাবে একের পর এক শিশু ও নারীকে তার কাছে ইজ্জত ও আব্রু খোয়াতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি চার বছর ধরে যথেষ্ট দক্ষতায় তৈরি করেছেন ড্যামি জ্যানেট স্মিথ। কিন্তু তারপরও অনেক নির্যাতিতার আইনজীবী লিজ ডাক্স বলেছেন, এধরনের প্রতিবেদনে জিমি স্যাভিলের অনেক ভয়ঙ্কর যৌন নির্যাতনের ঘটনাই উম্মোচিত হয়নি বরং বলাযায় এটি আসলে ব্যয়বহুল একটি আসল ঘটনাগুলোকে চাপা দেয়ার প্রয়াস মাত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *