বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়ে মালয়েশিয়ায় রাজনীতির গুটি কেন

Stop-300x300মালয়েশিয়ার সরকার ১৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক আনার চুক্তি করেছে। যাদের মস্তিস্ক বিকৃতি রয়েছে ও বিদেশিদের অহেতুক ভীতিপ্রদ হিসেবে যারা মনে করেন তাদের ধারণা বাংলাদেশিরা মালয়েশিয়ায় কাজ করতে এসে নারী ও দেশ ছিনতাই করবে। এমনকি বিদেশি শ্রমিকরা মালয়েশিয়ার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দিবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশিরা মালয়েশিয়ায় এসে কি ধরনের অপকর্ম করতে পারে তার ছবি, গ্রাফিক্স ও বই প্রকাশ করে বার বার ইন্টারনেট ও ম্যাসেজের মধ্যে দেখাচ্ছে।

রাজনৈতিকভাবে বিদেশি শ্রমিকদের দেশে আনার বিরোধিতা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমনটাই দেখা যাচ্ছে।

অনেকে আবার মজা করে কিংবা রাগ ও অনাস্থা প্রকাশ করতে যেয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিরোধিতা করছে। মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক নেতাসহ সর্বশেষ সরকার ও বিদেশি শ্রমিকদের উপর অনাস্থা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রে আরো বেশি অনাস্থা দেখা যায়।

তবে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তাদের ব্যবসায়ী কর্মকা- পরিচালনার জন্য দেশি-বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন রয়েছে। কিছু খাতে অল্প সংখ্যক শ্রমিক রয়েছে এখানে অত্যাবশ্যকভাবে শ্রমিক প্রয়োজন। ব্যবসায়িদের প্রয়োজন মোতাবেক সরকারের বিদেশি শ্রমিক আনা প্রয়োজন।

মালয়েশিয়ার যোগাযোগ খাতে বিদেশি শ্রমিকরা অবদান রেখে যাচ্ছে। রেল লাইন, রোড, নির্মাণ, বিমানবন্দরসহ অনেক স্থানে বিদেশি শ্রমিকের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে মালয়েশিয়ার। আর এই ক্ষেত্রে উপ-মহাদেশের শ্রমিকরাই বেশি অবদান রাখছে বিশেষ করে বাংলাদেশি শ্রমিকরা এর প্রশংসার দাবিদার।

মালয়েশিয়ার বনায়ন, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতেও সমানভাবে অবদান রাখছে বিদেশি শ্রমিকরা। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোক্তাদের বেশ সহায়তা করছে বিদেশি শ্রমিকরা। তারা এসব খাতের মধ্যে দোকানের কর্মী, রেস্টুরেন্ট, সেলুনের দোকানে, সিকিউরিটি কোম্পানি, পোষা প্রাণীর দেখা শোনা করা ও হাসপাতালগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ সব খাত বিদেশি শ্রমিকদের উপর নির্ভরশীল হয়ে মালয়েশিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া তারা মালয়েশিয়ার বাসা বাড়ি, কর্মসংস্থানে, শপিংমল ও সরকারি কর্মক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে। এছাড়া বিদেশি শ্রমিকরা গাড়ি পাহারা দেওয়া, রেস্টুরেন্টে ডিস পরিষ্কার করার মতো দেশের অসংখ্য সম্পদ পাহারা ও অর্থনীতির উপর অবদান রাখছে। বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, নেপাল, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, হাইতি ও অন্য দেশের শ্রমিকরা এই কাজ করছে মালয়েশিয়ায়।

তারা মালয়েশিয়ার চারপাশে কর্মরত থেকে দেশকে গৌরবান্বিত করছে। তবে মালয়েশিয়ার কিছু ব্যক্তি তাদের অবদান দেখতে পায় না। যারা বলে বিদেশি শ্রমিকদের কাজ তারা মালয়েশিয়ায় দেখতে চান না প্রকৃতপক্ষে তারা অন্ধ। অন্ধ বলেই তাদের চোখে বিদেশি শ্রমিকদের কাজ ধরা পড়ে না। তড়িঘড়ি করে কিভাবে তারা রেস্টুরেন্টের খাবার খান এই বিষয়টি কি ভেবে দেখেছেন।

বাসার বাইরে থেকে কম সময়ে ও কম দামে খাবার খেতে পারছেন। আর এটি সম্ভব হয়েছে কেবল বিদেশি শ্রমিকদের জন্যই।
এই বিদেশি শ্রমিকরাই নিজের শ্রম দিয়ে দেশের বিপজ্জনক, ঝুঁকিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত স্থানে কাজ করে দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখছে। এমনকি কম শ্রমের মূল্যে তারা এই কাজ করছে। মাঝে মধ্যে মালয়েশিয়ায় নাগরিকদের কাছ থেকে বিদেশিরা ‘হোয়াইট কালারের’ কাজ ছিনিয়ে নিয়েছে। এবং তারা স্থানীয়দের চেয়ে বেশি বেতন হাঁকাচ্ছে। এটি তাদের যোগ্যতার ফসল। এই নিয়ে রাগ বা হিংসার কিছু নেই। অনেকে তাদের পরিবার ছেড়ে নিজের শরীরের রক্ত, ঘাম ও চোখের পানি ঝরিয়ে মালয়েশিয়ার স্বার্থেই কাজ করছে। অথচ আমরা তাদের বিরোধিতা করছি।

মালয়েশিয়ার উচিৎ লজ্জাবোধ করা। কারণ বিদেশি শ্রমিকদের নিয়ে তারা রাজনীতি করছে। পানটামের নির্বাচনে বিদেশি শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। বাংলাদেশিদের ২০১৩ সালে দ্য বারিসান ন্যাশনাল নির্বাচনে ভোটারদের অধিকার দেওয়া হয়েছে। তারপরেই তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করে মৌলবাদের অভিযোগ করা হচ্ছে।

তবে মালয়েশিয়ার অন্ধ বিশ্বাসী ও রাজনীতিবিদরাই বিদেশি শ্রমিকদের সুবিধা নিচ্ছে। ২০১৩ সালের সাধারণ নির্বাচনের পরে দায়িত্বহীন ও সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদরা বিদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এখন তারা গণতন্ত্র ধ্বংসে বাংলাদেশিদের দোষারোপ করছে।

৩ বছর আগে বাংলাদেশিরা দেশের জন্য বিবেচনায় এলেও বর্তমানে তাদের প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়। দেশে কি পরিমাণে বিদেশি আছে এটি উদ্বেগের কোনো বিষয় নয়। কারণ দেশে তাদের প্রয়োজন রয়েছে। মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণেই তারা এখানে আসে। তারা ভবিষ্যতকে অগ্রসর করে নিয়ে চলছে। তাদের কাজের স্বীকৃতি দিয়ে প্রশংসা করার প্রয়োজন। বিদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক চালের গুটি বানানো উচিৎ নয়।

দ্য স্ট্রেইট টাইমস অনলাইনের নিবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *