বাংলাদেশের ভাসমান জলবাজার

7-350x197 নদী, খাল-বিল আকাঁবাকাঁ পথের বাঁকে বয়ে যাওয়া জলপথে চলে পেয়ারা বেচাকেনা। হাঁটুরেদের হাঁক-ডাকে সরগরম এই জলবাজার। দু’পাড়ের ঘন সবুজাভ পথ বুলিয়ে দেয় প্রকৃতির নির্মল পরশ।

অবাক হবেন না। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ভাসমান পেয়ারা বাজারের কথা। থাইল্যান্ডের ‘ফ্লোটিং মার্কেট’কে হার মানিয়ে দিবে এই অঞ্চল। হাজার হাজার চাষী এখানে পেয়ারা উৎপাদন করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। দক্ষিণের জেলা শহর ঝালকাঠী থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভিমরুলি গ্রামের কৃত্তিপাশা খালে বসে শতবর্ষের পুরনো ঐতিহ্যবাহি ‘ভাসমান হাট’। প্রায় সারা বছর এ হাট বসলেও পেয়ারা ও আমড়ার মৌসুমে ‘জুলাই থেকে আগস্ট’ পর্যন্ত প্রায় তিন মাস এ হাট জমজমাট থাকে। এছাড়া আটঘর এবং ভিমরুলে বসে এই ‘ভাসমান পেয়ারা হাট’। এক শতাব্দি ধরে চলে এসেছে এই ‘ভাসমান বাজার’, তবে কেউই বলতে পারেনা ঠিক কবে এই হাটের উৎপত্তি হয়েছিল। গাছ থেকে পেয়ারা সংগ্রহের পর সেগুলোর প্রথম বাহন হয় নৌকা। এরপর চাষীরা এগুলো হাটে নিয়ে যান। প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে পেয়ারা কিনতে সেখানে ভিড় করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পেয়ারা চাষীরা। তারপর ছড়িয়ে দেন ঢাকাসহ বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে।৩

তবে এই পেয়ারা চাষীদের আছে অনেক অসুবিধা। এখানে নেই কোন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণাগার। পেয়ারার তৈরি খাদ্যসামগ্রীর কারখানাও নেই দেশের বৃহত্তম এই বাণিজ্যিক পেয়ারা অঞ্চলে। ফলে চাষীদের দর-কষাকষির সুযোগ থাকে না।

নেশা ধরানো ঘ্রাণ আর স্বাদে ভরপুর ফল পেয়ারা। একে গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকার ‘আপেল’ বলা হয়। পেয়ারার আদি বাসস্থান আমেরিকা। তবে মেক্সিকো এবং পেরুর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে এর উৎপত্তি বলে মনে করা হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে পর্তুগীজরা ভারতে পেয়ারা আনলে তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ফল। বাংলাদেশের প্রতিটি স্থানে এটি চাষ করা হয়। গৃহিণীর হাতের ছোঁয়ায় প্রতিটি বাড়ির বাগানে বেড়ে উঠে এই গাছটি। তবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের এলাকা বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি পেয়ারা চাষের প্রধান এলাকা। এই সব বাগানে পানির চাহিদা পূরণ করে পার্শ্ববর্তী খাল।3-350x234

২কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে নদী ও সড়ক পথে ঝালকাঠী যাওয়া যায়। ঢাকার সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ছয়টায় বি আইডব্লিউটিএ’র রকেট-স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’, ‘পিএস অস্ট্রিচ’, ‘পিএস লেপচা’ ও ‘পিএস টার্ন’ ছাড়ে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের উদ্দেশ্যে। ঝালকাঠী স্টেশনে থামে স্টিমারগুলো।

সপ্তাহের দিনগুলোতে পালাক্রমে ছাড়ে স্টিমারগুলো। ভাড়া প্রথম শ্রেণি কেবিন জনপ্রতি ১ হাজার ২৫০ টাকা। দ্বিতীয় শ্রেণি কেবিন জনপ্রতি ৭৬০ টাকা। তৃতীয় শ্রেণি ডেক জনপ্রতি ১৯০ টাকা।

এছাড়া সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ৬টায় ঝালকাঠীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় ‘এমভি ফারহান ৮’ এবং ‘এমভি সুন্দরবন ২’ লঞ্চ। ভাড়া দ্বৈত কেবিন ১ হাজার ৮শ’ টাকা। একক কেবিন ১ হাজার টাকা এবং ডেকে জনপ্রতি ২শ’ টাকা।

ঢাকার গাবতলী থেকে সাকুরা পরিবহনের এসি বাসও যায় ঝালকাঠী। ভাড়া ৮শ’ টাকা। এছাড়া, ‘দ্রুতি’, ‘ঈগল’, ‘সুরভী’ ও ‘সাকুরা’ পরিবহনের নন এসি বাসে ভাড়া ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা।

৭ঝালকাঠী লঞ্চঘাট কিংবা কাঠপট্টি ঘাটে ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। ১০ জনের চলার উপযোগী একটি নৌকার সারাদিনের ভাড়া ১ হাজার ৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা।

কোথায় থাকবেন: ঢাকা থেকে রাতের লঞ্চে গিয়ে পরের দিন ঘুরে আবার রাতের লঞ্চেই ফেরা যায়। তবে থাকতে চাইলে ঝালকাঠী শহরে সাধারণ মানের হোটেল আছে। ভাড়া ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। তবে বরিশাল শহরে আরও ভালো মানের হোটেল আছে।

প্রয়োজনীয় তথ্য: নদীপথে ভ্রমণে অবশ্যই সাথে রাখুন লাইফ জ্যাকেট। প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট কিংবা অন্য কোনো অপচনশীল বর্জ্য খালে ফেলবেন না। নদীর মতই সরল আর প্রকৃতির মত নির্মল এই এলাকার মানুষগুলো। দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য ভিমরুলি বাজারে পাবেন ভাল রেঁস্তোরা।

সূত্র: গ্লোবাল ভয়েস,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *