আমার বাবাকে হত্যা করেছে যুদ্ধ 

kargil-350x308 ‘আমি সব মুসলমান, পাকিস্তানকে ঘৃণা করি। তারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে’। এক সময় এমনটাই মনে করতেন ভারতের গুলমেহার কাউত (১৯)। গুলমেহার মাত্র ২ বছর বয়সে কারগিল যুদ্ধে (১৯৯৯) তার সৈনিক বাবাকে হারান। তবে এখন তিনি বলেন, ‘ আমি বুঝতে পেরেছি, পাকিস্তান নয়, আমার বাবাকে হত্যা করেছে যুদ্ধ’।

বিশ্ববাসীর কাছে গুলমেহের একটি ছোট্ট ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে যুদ্ধের বিরুদ্ধে এমন বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। ভিডিওতে ছোট ছোট কিছু প্ল্যাকার্ড দিয়ে তিনি জানান, আমি পাকিস্তানকে ঘৃণা করলেও একসময় আমি বুঝতে পারি যে, আমি যেভাবে ভাবি, সীমান্তের ওপারের মানুষগুলোও ঠিক সেভাবেই ভাবে। ‘ভারত এবং পাকিস্তানের জনগণ পরস্পরকে ঘৃণা করেই আসছে’। এই যুদ্ধের কারণে দু’পাড়ের অনেক মানুষ মারা গিয়েছে। যুদ্ধ অনেক ভয়াবহ, সবাই যুদ্ধের বিভৎসতা এবং শহীদদের সম্পর্কে ক্ষণস্থায়ী আলোচনা করে। কিন্তু কেউ এটি বলে না যে যুদ্ধাহত পরিবারটি ঠিক কি পরিস্থিতিতে আছে? আমি চাই না আমার মতো কেউ যেন এমন পরিস্থিতিতে পড়ে। যথেষ্ট হয়েছে। শান্তিই সব পাল্টে দিতে পারে। এটি খুব সহজ না হলেও খুব কঠিন নয়।
গুলমেহের জানান, আমার বাবা সম্পর্কে আমার খুব কমই মনে আছে। কিন্তু আমার এটি খুব ভালই মনে আছে যে বাবা না থাকার যন্ত্রণা কি? আমি তীব্রভাবে অনুভব করতাম আমি পাকিস্তানকে কতটা ঘৃণা করি কারণ তারা আমার বাবাকে হত্যা করেছিল। আমি মুসলমানদেরও অনেক ঘৃণা করতাম কারণ আমি ভাবতাম সব মুসলমান পাকিস্তানিদের মতো।

আমার বয়স যখন ৬ বছর আমি বোরখা পরা এক মেয়েকে ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করি। কারণ আমি জানি পাকিস্তানিরা মুসলিম, আর মুসলমানরা বোরখা পরে। তাই আমি ভেবেছিলাম বোরখা পরা মহিলাটি বা তার পরিবারের কেউ আমার বাবাকে হত্যা করেছে। সেই আমার বাবার মৃত্যুর কারণ। পরে আমার মা আমাকে ধরে ফেলে এবং আমাকে বোঝায় যে, কোনো পাকিস্তানি আমার বাবাকে হত্যা করেনি, ‘আমার বাবাকে হত্যা করেছে যুদ্ধ’।

বর্তমানে আমি আমার বাবার মতোই একজন সৈনিক। আমি ‘শান্তির সৈন্য’। সব শিশুদের যুদ্ধকে ঘৃৃণা করতে শিখতে হবে। শান্তিই সব পাল্টে দিতে পারে। আর সন্ত্রাসবাদ শান্তির বিপরীত ধ্বনি। আমি ভারত-পাকিস্তানের শান্তির জন্য যুদ্ধ করব। আমি আর্মিতে যোগ দিতে চাই, সব সৈন্যরা আমার বাবার মতো। আর কোন সৈনিকই যুদ্ধ প্রত্যাশা করে না।

সূত্র:এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *