তিস্তায় বিলুপ্ত ৪০ প্রজাতির মাছ

UUUতিস্তা নদী শুকিয়ে যাওয়ায় উত্তারাঞ্চলের অনেক জেলে পেশা হারাচ্ছেন। সরকারি হিসেবে বিলুপ্ত হয়েছে প্রায় ৪০ প্রজাতির মাছ। হুমকির মুখে প্রায় ৫০’র বেশি প্রজাতি। অগভীর নদীর উল্টো রুপ দেখা যায় বর্ষায়। উজান থেকে নেমে আসা পানিতে প্লাবিত হয় নি¤œাঞ্চল। কোথাও কোথাও দেখা দেয় ভাঙ্গণ। এদিকে গবেষকরা বলছেন, নাব্যতা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নদীর পাড়ের মানুষ।

ভারতের অপ্রয়োজনীয় পানিতে শীতল তিস্তার বুক। তাই মাছ থাক বা না থাক নতুন পানিতে জাল ফেলার লোভ সামলাতে পারছেন না অনেক জেলেই। আগে এই নদীতে রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যেত বলে জেলেরা জানান। যা এখন শুধুই গল্পের মতো।

নদীর পাড়ের মানুষ আমিন উদ্দিন বলেন, এক সময় এই নদীর মাছেই আমাদের জীবন ও জীবিকা চলতো। তবে বর্তমানে নদীতে ভারতের অপ্রয়োজনীয় নতুন পানি যেন নতুন কোনো গল্প। কারণ পানি আছে মাছ নেই। তাই আমিন উদ্দিনের মতো অনেক জেলেই বাধ্য হয়ে ভ্যান চালাতে হচ্ছে কিন্তু তাতেও তেমন টাকা পাওয়া যাচ্ছে না দিন শেষে।

নদীগুলোতে পানি না থাকায় পাল্টে গেছে জীবনের ধরণ। প্রয়োজনের সময় নদী শুকিয়ে কাঠ আবার বর্ষায় অল্প বৃষ্টিতেই প্লাবন ভাঙ্গন দেখা দেয়। যে ভাঙ্গনে সব হারিয়ে পথে বসেছে দক্ষিণ অঞ্চলের অনেকেই।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, প্রায় দেশে মিঠাপানির ২’শ ৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে প্রায় ৪০ প্রজাতি। বিলুপ্তির পথে আরো ৬৮ প্রজাতি।

বিশিষ্ট পানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদ ড.আইনুন নিশাত বলেন, বর্ষার সময় পানি ৩ লক্ষ ৪ লক্ষ কিবিট পার সেকেন্ডে ওপরে উঠে আসে। এটাকে যদি জলাধার করে কমিয়ে ২ লক্ষ কিংবা আড়াই লক্ষ করে ছেঁকে রেখে দেয়া হয় তাহলে শুকনো মৌসুমে অনেক কাজে আসবে।

তিস্তা জুড়ে বেঁচেছিল এখানকার অনেক মানুষ কিন্তু বর্তমানে সেই তিস্তার বুকে গড়ে উঠেছে অনেক চর। যার ফলে কৃষকেরা যেমন ক্ষতির মুখে তেমনি বিপাকে আছেন সাধারণ জেলেরাও।

যমুনা টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *