দুনিয়ার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল

aa_main_2887961aইয়ামিন বিন রফিক : দুর্গম পাহাড়ের গা বেয়ে শত শত ফুট অতিক্রম করে চীনের এই বালক বালিকারা স্কুলে পড়তে যায়। ছবি দেখলে গা শিউরে ওঠে। কিন্তু ওদের পাহাড়ি গ্রাম এতই প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে সমতলে নেই কোনো স্কুল ঘর। খাড়া পাহাড়েরর গায়ে বাঁশের হাতল ধরে ধরে বা পাহাড়ের গায়ে দড়ি ধরে কিভাবে যে স্কুলে ওরা দুই সপ্তাহ পর পর যায় যা শুধু অবিশ্বাস্য নয় রোমাঞ্চকর বটে। চীনের ফ্লুং প্রদেশের ঘটনা এটি। দক্ষিণ পশ্চিম চীনের ওই গ্রামে ৬ বছর বয়স হলে বালক বালিকাদের ২ হাজার ৬২৪ ফুট উঁচু পাহাড়ে যেতে হয় বিদ্যার পাঠ নিতে। সাপের মত সরু, কখনো পিচ্ছিল, কখনো পাথরে পরিপূর্ণ এ পথ ওরা কিভাবে পাড়ি দিয়ে উঁচু পাহাড়ের খাড়ি বেয়ে ওঠে তা ভীতিপ্রদও।

SUNSPEC2_PHT_Awkwa_2887923aচীনের সিচুয়ান প্রদেশের হুয়ানকিউ গ্রামের এক ব্যক্তি ওদের এই স্কুলে যাওয়ার আসার পথ ক্যামেরা বন্দী করেছেন। পাক্কা দেড়ঘন্টার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ওরা স্কুলে যায়। যা বিপদজনক এক যাত্রা। তবে স্কুল শেষে পাহাড় থেকে ঘন্টা খানেকের মধ্যেই নেমে আসে। পাহাড়ের গায়ে আর বাঁকে বাঁকে অন্তত বাঁশ দিয়ে কিংবা লোহার তার দিয়ে বাঁধা ১৭টি মই সংযুক্ত থাকে যা বেয়ে বালকা বালিকারা স্কুলে যায়। কোথাও পাহাড়ের গা ঘেষে শুধু এক পা ফেলার জায়গা অবশিষ্ট। সেই পথ কিভাবে কত কষ্টে যে পাড়ি দিয়ে ওরা স্কুলে যায় তা কল্পনাও করা যায় না। লি’র ওই প্রাইমারি স্কুলে ওরা পৌঁছানোর পর দুই সপ্তাহ পাঠ গ্রহণ করে। তার পর পাহাড় থেকে ফের নিচে নেমে আসার পালা।SUNSPEC2_PHT_Awkwa_2887925a

অভিভাবকরা তাদের জন্যে অপেক্ষা করে। বাহাত্তরটি পরিবার ওই পার্বত্য গ্রামে বাস করে। গ্রামের নাম আতুলিইর। ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সি ১৫ জন শিক্ষার্থীকে তিন ব্যক্তি দেখে শুনে স্কুলে নিয়ে যায়। অধিকাংশ বাসিন্দা মরিচ চাষ করে।

SUNSPEC2_PHT_Awkwa_2887926aযারা স্কুলে ওদের নিয়ে যায় তাদেরই একজন চেন গুজি, তিনি বলেন, ভোর ৬টায় তিনি ঘুম থেকে উঠে বালক বালিকাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। তার ৬ বছরের সন্তানের জন্যে বিশেষ ধরনের দড়ি ও জিনিসপত্র রয়েছে যা তাকে নির্বিঘেœ পাহাড়ের গা বেয়ে উঠতে সাহায্য করে। শীতে বরফ পড়ার সময় ও বর্ষার সময় বৃষ্টিতে অনেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এমন দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে অন্তত ৮ জন মারা গেছে বলে জানান ঝিইরমো শহরের কম্যুনিষ্ট পার্টির সেক্রেটারি এ পি জি টি। চীনের সরকারের তরফ থেকে এধরনের দুর্গম এলাকার মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে সে জন্যে নানা প্রকল্প নেন। দশ লাখ ইউয়ান খরচ করে তারা গ্রামের বাসিন্দাদের ভেড়া কিনে দিয়েছেন।SUNSPEC2_PHT_Awkwa_2887928a

SUNSPEC2_PHT_Awkwa_2887931aঝাওজুই কাউন্টি অফিসার সেক্রেটারি জি কি জিন সং বলেন, সমস্যা হচ্ছে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে শহরে নেয়া যায় কিন্তু জমি ও খামার ছাড়া তাদের কোনো কাজ নেই। তাদের প্রচুর জমি আছে যেখানে উচ্চ জাতের শস্য ফলে। তাদের গ্রামে রাস্তা তৈরি করতে অন্তত ৬০ মিলিয়ন ইউয়ান প্রয়োজন। কিন্তু বাসিন্দার সংখ্যা এত কম যে এত টাকা খরচ করে রাস্তা তৈরি করলে তা আর্থিকভাবে পোষায় না। তবে গ্রামের বাসিন্দারা আশা করেন, একদিন হয়ত পর্যটকদের আনাগোনা তাদের গ্রামে বাড়বে যাতে করে তারাও লাভবান হয়ে উঠবে কিংবা রাস্তাও পেয়ে যেতে পারে। সান থেকেSUNSPEC2_PHT_Awkwa_2887932a

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *