যেভাবে নেতা হতে পারেন আপনিও

Screen-Shot-2016-08-30-at-8.19.55-AM-1-768x376আপনি যদি অসাধারণ একজন নেতা হয়ে উঠতে চান তাহলে আপনাকে জানতে হবে কিভাবে নেতা হয়ে উঠতে হয়। নেতৃত্বের কথা এলে অধিকাংশ মানুষ জানতে চান কি করতে হবে তাকে। কিন্তু সেটাই সব নয়। যিনিই নেতা হতে চান না কেন আগে জানতে হবে নেতা হয়ে ওঠার জন্যে কি গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি যা কিছুই করেন, মনে রাখবেন আপনার এ কাজ ভাল থেকে আপনাকে নিয়ে যাবে মহত্ত্বম কাজে। খুব সামান্য কাজ কিন্তু এসব কাজই আপনাকে অসাধারণ করে তুলবে। আসলে এধরনের ভাল কাজ আপনাকে নেতা হয়ে ওঠার পথচলায় জালানি যোগান দেবে।

মনে রাখবেন সবকিছুই শুরু হয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট থেকে: চরিত্র মৌলিক এক ভিত্তি গড়ে দেয় আপনাকে। এর বলেই আপনি আপনার দুনিয়ার চারপাশে নিজেকে কিভাবে সম্পৃক্ত করবেন তা নির্ধারণ করে। যা আমাদের লক্ষ্য হয়ে ওঠে, আমরা যে লক্ষ্যমাত্রায় গতি আনতে চাই, যাদের সঙ্গে আমরা কথা বলি, কাজের যে মূল্যায়ন করে থাকি, যা করতে আমরা পছন্দ করি বা নির্ধারিত হয়ে ওঠে। আমরা যদি সাধারণ কোনো কাজের ভেতর দিয়ে অসাধারণ এক নেতৃত্বে রুপান্তরিত হয়ে উঠি তাহলে চরিত্রই হবে আপনার চালিকাশক্তি। পরিস্থিতি নয়। পরিস্থিতি হয়ত আপনাকে ঘটনাস্থলে উপস্থাপন করবে। চরিত্রই আসলে মূল ভিত্তি যার ওপর আস্থা রেখে আপনি নেতৃত্বের বিকাশ করে লাভবান হয়ে উঠতে পারবেন।

হ্যা নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট থেকে যে আস্থা আপনি পাচ্ছেন সেই আস্থারই ক্রমাগত প্রদর্শন আপনাকে করতে হবে। একজন নেতার অনেক দক্ষতা থাকে। এর সঙ্গে আস্থা যোগ হলে তা হয়ে ওঠে পয়মন্ত। কারণ একজন ভাল নেতার আস্থা ও কর্মদক্ষতার সংমিশ্রণ তাকে মহান করে তোলে। সত্যিকারের একজন সফল নেতা শুধু যে স্মার্ট হবেন তা যথেষ্ট নয়, বরং তাকে বিশ্লেষণাত্মক শিক্ষাবিদের পর্যায়ে যেতে হবে। সাধারণ যে কোনো মানুষের তুলনায় তাকে দশ ধাপ এগিয়ে থাকতে হবে। বিষয়টি এমন যে একজন নেতা জানবেন কখন কোন কাজটি সঠিকভাবেই করতে হবে। কোথায় তিনি যাবেন, কিভাবে যাবেন কিন্তু আস্থা ছাড়া তিনি কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করতে চাইলে তা সম্ভব হয়ে উঠবে না। মোদ্দা কথা নিজের ওপর কিংবা অন্যের ওপর আস্থা না থাকলে কোনো নেতৃত্ব কাজ করে না।

তাহলে আপনাকেই আস্থা অর্জনে সক্রিয় হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ কিংবা অসাধারণ কাজ করার ভেতর দিয়ে আপনাকে নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। এবং এটা করতে যেয়ে যাবতীয় অস্বস্তির মাঝ দিয়ে আরামদায়ক অবস্থানে চলে যেতে হবে। এটাই হচ্ছে সাফল্য পাওয়ার মূল চাবিকাঠি। অসাধারণ নেতারা কাজ করেন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে যেখানে তিনি একই সঙ্গে নিজেকে সক্রিয় হয়ে ওঠার সাথে সাথে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের নাগাল পান।

ঝুঁকিকে আলিঙ্গন করতে শিখতে জানতে হবে: কোনো অসাধারণ নেতাই এক্ষেত্রে দোদুল্যমান হয়ে থাকেন না বা বকবক করেই ক্ষান্ত হন না। সাহসী এবং দুর্বিনীত হয়ে ওঠা মহান নেতৃত্বের জন্যে অবধারিত না হলেও চ্যালেঞ্জ নেয়ার ঝুঁকি নেয়া এবং এজন্যে সুযোগের সদ্ব্যবহার করা বা সঠিক ধারণা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া জরুরি। কেউ তাদের দিকে তাকাতেও চায় না যারা জীবনকে চ্যালেঞ্জের সঙ্গে গ্রহণ করতে চান না। যথেষ্ট ভাল কাজ করলেও নয়। ভাল কাজ যথেষ্ট নয় যা তাকে মহান করতে পারে না। এমনকি মহান কাজও কখনো অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে না। অসাধারণ নেতৃত্ব হচ্ছে সেটাই যা জানে কিভাবে সাফল্য পেতে হয়। এবং তা পেতে আপনাকে ঝুঁকি নিতেই হবে।

আপনার ক্ষমতাকে পদক্ষেপ নিতে তৈরি করুন: যেসব নেতা অন্যের চেয়ে আলাদা অবস্থান তৈরি করেন তাদের কাজের মধ্যে দিয়ে তা ঝটিকা বেগে না হলেও দ্রুত ও মীমাংসিত উপায়েই তিনি তা করে থাকেন। কোনো নেতা যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেন কিছু করার জন্যে তাহলে কারো অপেক্ষা তিনি করেন না। সবচেয়ে ভাল উদ্যোগ তিনি নেন এবং তা হচ্ছে সেই উদ্যোগ অন্যকোনো ব্যক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবেন কি না তা ধর্তব্যের মধ্যেই ধরেন না। তিনি তা বাস্তবায়ন করেই ছাড়েন। এটা ভাবা খুবই অবাস্তব যে কেউ নেতৃত্ব অর্জন করবেন শুধু তা তারই প্রতিযোগিতা বা ক্ষমতার উপর তা নির্ভর করবে। তার এটাও প্রয়োজন হবে অসাধারণ কোনো পদক্ষেপ নেয়ার।

পরিবর্তনের জন্যে আপনার মাঝে ক্ষুধার বিকাজ প্রয়োজন: কোনো প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন আনতে চাইলে তা চ্যালেঞ্জিং বটে। কারণ মানুষ প্রায়শ: পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে ইতস্ততা বোধ করে। প্রশ্ন তোলে বরং যেভাবে চলছে তা মন্দ কি বা এটাই হওয়া কি উচিত নয় ইত্যাদি। এমনকি আমরা যদিও জানি যে পরিবর্তন অনিবার্য, পরিবর্তনের মধ্যে দিয়েই একজন নেতা তার সিংহাসনে টিকে থাকেন। কিন্তু অসাধারণ নেতা তিনিই যিনি শক্তিশালীভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেরা মানের একজন নেতা তিনি যিনি কল্পনা করে তার কাজটিকে পরিকল্পনায় এনে বাস্তবায়ন করতে পারেন এবং পরিবর্তনের জন্যে প্রয়োজনীয় কাজগুলো গুছিয়ে নিয়ে তা সংগঠক হিসেবে রুপান্তর ঘটান। অর্থাৎ আপনি আপনার দক্ষতার উন্নয়ন করুন এবং পরিবর্তনের প্রতিনিধি হিসেবে তার বিকল্প নেই।

স্বীকার করতে চুক্তিবদ্ধ করুন: নেতারা এমন এক শক্তিশালী আবহ তৈরি করেন এবং প্রতিশ্রুতির ভেতর দিয়ে সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগান যা বুঝে উঠে তাকে অনুসরণকারীরা তা স্বীকৃতি দিতে কার্পণ্য করে না। একজন মহান নেতার মূল্যবোধই নিহিত থাকে মানুষের সুখের মধ্যে। একজন অসাধারণ নেতা তার অনুসারীদের মধ্যে কাজের আকাঙ্খা সৃষ্টি করেন, তাদের কর্মসংস্থানে আবদ্ধ করেন যাতে সুখ নিহিত হয়। কাজে সম্পৃক্ত থাকা এবং নেতৃত্ব একই সূত্রে গাঁথা যা সকলে বিশ্বাস করে। আপনি আপনার প্রবৃত্তিকে কাজের আবহে এনে প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি ও মানুষকে পরিবর্তন করতে পারেন। তখন সাফল্য করায়ত্ত হয়ে পড়ে।

প্রেরণা এবং অনুপ্রাণিত করা : একজন সাধারণ নেতা মানুষকে আন্দোলনে শামিল করতে পারেন, আরেকজন অসাধারণ নেতা তাদের আরো সক্রিয় করে তুলে সেরা কাজটি আদায় করে নিতে পারেন। প্রেরণা মানুষকে সক্রিয় হতে সাহায্য করে, অনুপ্রেরণা তাদেরকে মহৎ কাজে বাধ্য করে। মানুষ গভীরভাবে চায় কোনো কিছুর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে, এটাই মানুষের স্বাভাবিক মৌলিক প্রবৃত্তি। আপনি যদি প্রেরণা ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করতে চান তাহলে আপনাকে মানুষের আসল চাহিদা বুঝতে হবে এবং সেই চাহিদা আদায়ের কৌশল আয়ত্বে তাদেরকে পরিপূণ্য যোগ্যতায় নিয়ে তাদের মধ্যে উন্নয়ন সাধন ও সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।

তাদের জন্যে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন, বিশ্বাস অর্জন করেন এবং আস্থা সৃষ্টি করেন। আস্থার সঙ্গে আপনি পুরো দুনিয়া পরিবর্তন করতে পারবেন। আস্থাই নেতৃত্বের কলিজা। এ আস্থা আপনাকে দ্রুত ফলাফল এনে দেবে। মানুষের সঙ্গে গভীরতম সম্পর্ক নির্ণয় করবে। এবং সম্পর্ককে আরো মজবুত করবে। আস্থা অসাধারণ সব নেতৃত্ব সৃষ্টি করে প্রতিটি স্তরে যেখানে নেতৃত্বের উদ্যোগ ও তার বক্তব্য আদর্শ ও মূল্যবোধের সঙ্গে খাপ খেয়ে যায়। এসব উপাদান ধারাবাহিকভাবে উচ্চ কর্মক্ষমতা তৈরি করে যা নেতৃত্বের জন্যে উপলব্ধি করা সহজ হয়। যদি অর্থনৈতিকভাবে বিবেচনা করা যায় তাহলে এধরনের নিরন্তর প্রচেষ্টা, বিক্রি, লাভ, প্রতিভা, স্মৃতিশক্তি যেকোনো কোম্পানির জন্যে শুধু খ্যাতি নয় গ্রাহদেরও সন্তষ্টি নিয়ে আসতে পারে। কারণ আস্থা আপনাকে নেতৃত্বে আহরণ করতে সাহায্য করে এবং আপনার নেতৃত্বের বৈধতার মাপকাঠি হয়ে ওঠে। এটা কেনা যায় না, বাধ্যতামূলক নয়। এটা অবশ্যই অর্জন করতে ঝাঁপিয়ে পড়ার ব্যাপার।

অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে শক্তি অর্জন ও তার আকার দেয়া: অসাধারণ নেতারা জানেন যে আপনি মানুষকে তার অভিজ্ঞতার আলোকেই বিচারের নিরিখে আনবেন। এ ঝোঁক নেই যে হাজারো মানুষের মাঝে তাদের কেউ দাঁড়িয়ে যাবেন। তারা তাদের বাগ্মিতা নিয়ে হাজারো মানুষকে সন্মোহিত করতে জানেন না। এখানেই সাধারণ মানুষের ভীড় থেকে নেতাকে তার স্বচ্ছতা ও সম্পৃক্ততার শক্তিসহ আলাদা করে ফেলে। নেতাদের ধারণা, প্রতিশ্রুতিতে তাদের গভীরতা, অকপটতা মানুষকে আরো গভীর জ্ঞানের আঁধারে নিয়ে যায়। নেতারা জানেন কিভাবে তিনি আপনাকে পরিবর্তন করবেন এবং আপনিও বিশ্বকে পরিবর্তন করবেন।

সবার মাঝ থেকেই নেতা উঠে আসেন: যে কেউ এক অসাধারণ নেতা হতে পারেন। তবে আপনাদেরকে সে জন্যে সাধারণ কৌশলের সঙ্গে সঙ্গে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে। সূত্র: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *