শত্রুরা জানতে চায়না আপনি শিয়া না সুন্নি, তারা চায় দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি

imagesব্রিটিশ রাজনীতিবিদ, সম্প্রচার ব্যক্তিত্ব ও লেখক জর্জ গ্যালাওয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভক্ত করে শাসন করার কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, তারা কখনো এটা বিবেচনা করে না যে আপনি শিয়া না সুন্নি। যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আমি বসি সেখানে সাড়ে ৬’শ সদস্য, তাদের প্রত্যেককে যদি আমি জিজ্ঞেস করি শিয়া ও সুন্নির মধ্যে পার্থক্য কি, তাদের কেউ তা বলতে পারবে না। তারা ধর্তব্যের মধ্যেই আনে না যে আপনি শিয়া না সুন্নি। তাদের কিছুই আছে যায় না যে আপনি নামাজ পড়েন কি না, রোজা রাখেন কি না, হজ করেছেন কি না। তারা ইসলাম সম্পর্কেও ভাবে না। তাদের ধর্ম নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই। তারা শুধু আপনাকে কিভাবে দ্বিধাবিভক্ত করবে সে চিন্তা করে। তারা সেটাই ভাবে কিভাবে আমি আপনি একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।

একজন নারী জর্জ গ্যালাওয়েকে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের সমীকরণ জানতে চাইলে জর্জ গ্যালাওয়ে এধরনের উত্তর দেন। তিনি বলেন, ম্যাডাম সততার সঙ্গে বলছি, আপনি কিভাবে এ তিনটি দেশের সম্পর্কের সমীকরণ করবেন। ইরান কিভাবে আরবদের ঐক্যে বাধা সৃষ্টি করছে জানিনা, তবে আরবরা যদি নিজেদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে চায় তাহলে তা সম্ভব কিন্তু তা তারা করছে না এবং সেটাই সমস্যা। গত চল্লিশ বছর ধরে আরবদের জন্যে আমার যদি বলার কিছু থাকে তাহলে সেটি হচ্ছে, অনৈক্য থেকে নিজেদের ঐক্যে ফিরে আসতে হবে।

জর্জ গ্যালাওয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রুকলিনের রাস্তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুত বিল পরিশোধ করতে পারে না, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের মানুষের ঐক্যকে থামাতে পারে না, লেবাননের মানুষ সিরিয়ার মানুষের সঙ্গে ঐকবদ্ধ, লেবানন ও সিরিয়ার মানুষ ইরাকের মানুষের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু পারে আরবদের মধ্যে ঐক্য ঠেকাতে। এবং আরবরাই নিজেদের ঐক্যকে জলাঞ্জলি দিয়েছে। আরবের কোনো কফিশপে যেসব মানুষ বসে থাকে, তারা একে অপরকে দোষারোপ করে। তারা হাওয়াজার সমালোচনা করে, তারা তুরস্কের নাগরিকদের দোষারোপ করে, তারা ব্রিটিশদের সমালোচনা করে, তারা ইসরায়েলিদের দোষ দেয়, সৌদি নাগরিকদেরও তারা সমালোচনা করে, ইরানের জনগণের দোষারোপ করে এবং এধরনের পারস্পরিক দোষারোপ ও সমালোচনায় আমরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ি। এবং দীর্ঘদিন ধরে এধরনের অনৈক্য আমাদের দুর্বল করে রেখেছে। যতদিন আমরা দুর্বল রয়েছি ততদিন তারা আমাদের সম্পদ লুটে নিচ্ছে। এটা রকেট সাইন্স বা জটিল কোনো বিজ্ঞান নয়। এবং এ পরিস্থিতি বুঝতে ও এথেকে ঘুরে দাঁড়াতে আপনাকে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন হতে হবে না।

ব্রিটিশ এই রাজনীতিক বলেন, ঐক্যই শক্তি। আপনি যদি কে শিয়া কে সুন্নি এমন ভাবনা বন্ধ করেন, লেবানন ও সিরিয়ার মানুষের মত ভাবেন এবং তা না করে যদি আপনি ডান না বাম ভাবেন, পাশ্চাত্য না প্রাচ্য ভাবেন তাহলে ঐক্য আসবে না। আপনাকে এধরনের ভাবনার পরিসমাপ্তি ঘটাতে হবে। কারণ বিশ্বে সাড়ে তিন”শ মিলিয়ন মুসলমান যারা আপনার মত একই ভাষায় কথা বলেন, ইউরোপে আমরা দেড়’শ ভাষায় কথা বলি, আপনাদের এক আল্লাহ, কল্পনা করার চেষ্টা করুন আপনাদের কত শক্তি, আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ হন! এবং তার আগে আপনারা যদি নিজেরা বসেন, ফের একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকেন তাহলে কখনো ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়। এবং এভাবে বিভক্ত হয়ে থাকলে পরাশক্তিরা আপনাদের সম্পদ লুন্ঠন অব্যাহত রাখবে। যতদিন আপনারা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, ততদিন আপনার শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন না। আপনারা কখনো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন না, বরং তাদেরকে আপনারা আপনাদের তেল, গ্যাস, পানি এমনকি আপনাকে হরণ করার সুযোগ দিতে থাকবেন যা আল্লাহ আপনাদের দিয়েছেন। আবনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *