বাচ্চাদের পড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিভাবকরাও হিমশিম খান

3A8F0A6B00000578-3953514-image-a-80_1479602910296হোমওয়ার্ক শুধু যে ছাত্রছাত্রীর জন্যে নয়, তা যেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিভাবকদের দিশেহারা করে তুলেছে। তারা যেন তাদের ছেলেমেয়ের কাছে হোমওয়ার্ক সম্পন্ন করার কথা আশাই করতে পারছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ থেকে দেয়া এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি কমিটি পরামর্শ দিয়ে বলেছে বাচ্চাদের লেখাপড়া করানো ঘরে ঘরে যেন এক পারিবারিক মনস্তাত্তিক চাপে পরিণত হয়েছে। তবে স্কুলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বাচ্চাদের ঘরে লেখাপড়া করানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ না করে সহজভাবে তা সম্পন্ন করা উচিত। এছাড়া শিক্ষকদের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের পারস্পরিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

এও বলা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক পর্যায়ে যে পদ্ধতিতে ঘরে বাচ্চাদের লেখাপড়া করানো হচ্ছে তাতে ছাত্রছাত্রীরা খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারছে না একদিকে, অন্যদিকে অভিভাবকরাও মানসিক চাপে ভুগছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল কাউন্সিল বলছে, শিক্ষকদের উচিত সেই হোমওয়ার্ক বাচ্চাদের দেয়া যা আদতেই তাদের ভবিষ্যত জীবনে কাজে লাগে। এমনকি হোমওয়ার্ক বাছাই করার ক্ষেত্রে স্পষ্ট যুক্তি থাকার কথাও বলছে ওই কাউন্সিল।

এছাড়া হোমওয়ার্কগুলো যেন বাচ্চাদের জন্যে খুব কঠিন না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছে কাউন্সিল। যাতে বাসায় বাচ্চারা হোমওয়ার্ক নিয়ে খুব একটা পরিশ্রম করতে যেয়ে কাহিল হয়ে না যায় এবং তাদের অভিভাবকদের এ নিয়ে গলদঘর্ম না হতে হয়।

স্কুলগুলোর উচিত হোমওয়ার্কের সময়সীমা সম্পর্কে খেয়াল রাখা। যাতে বাচ্চারা বাসায় নির্ধারিত সময়েই তা শেষ করতে পারে। যদি তা না হয় তাহলে দীর্ঘসময়ে অভিভাবকরা বাচ্চাদের হোমওয়ার্ক করাতে যেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন ও মানসিক চাপে পড়েন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয় শিক্ষকদের সময় না থাকলে সহপাঠীরা যাতে মিলেমিশে তা শেষ করতে পারে, সিলেবাস এমন হওয়াই উচিত।

হোমওয়ার্ক নিয়ে বিতর্কিত সুপারিশে প্রচলিত এ ধারণা পরিবর্তনের পক্ষে রয়েছে বেশকিছু স্কুল ও অভিভাবকরা। তবে শিক্ষকদের একটা বড় অভিযোগ হচ্ছে তারা ক্লাসে পর্যাপ্ত সময় পান না। আবার কোনো কোনো অভিভাবক বাচ্চাদের হোমওয়ার্ক শেষ করতে প্রচ- চাপ সৃষ্টি করে থাকে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন, বাচ্চারা স্কুলের ক্লাসে কি শিখবে এব্যাপারে তাদের সুষ্পষ্ট ধারণা ও শক্তিশালী মনোভাবের সঙ্গে স্থিরমনস্ক থাকা প্রয়োজন।

শিক্ষা ও নিউরোসাইন্সের বিশেষজ্ঞ ড. হেলেন আবাদজি যিনি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি গত মাসে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এক সম্মেলনে বলেন, ‘স্কুলগুলো আমাদের জানাচ্ছে যে তারা আর হোমওয়ার্ক দিতে চায় না। কারণ হোমওয়ার্ক অভিভাবকদের মানসিক চাপে ফেলে। কিন্তু হোমওয়ার্ক হচ্ছে সেই জিনিষ যা বাচ্চাদের ক্লাসে যা পড়ানো হয় সে সম্পর্কে আরো সুষ্পষ্ট ধারণা দিতে সাহায্য করে এবং তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করে। বাসায় যখন বাচ্চারা হোমওয়ার্ক করে তখন তা তার চেতন বা অবচেতন মনে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ক্লাসের পাঠকরা বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা আরো বদ্ধমূল হয়ে গেঁথে যায়। এতে তার স্মরণশক্তিতেই বিষয়গুলো স্থান করে নেয়। এমনকি দুর্বোধ্য বিষয়গুলো বাচ্চাদের কাছে সহজবোধ্য হয়ে পড়ে।

১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইমারি স্কুলগুলোতে দিকনির্দেশনা দিয়ে বলা হয় পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত সপ্তাহে এক ঘন্টা ও সাত থেকে এগারো বছর বয়সের ছাত্রদের রাতে দেড় ঘন্টা সময় হোমওয়ার্কের জন্যে দেয়া উচিত। কিন্তু সাবেক শিক্ষা সচিব মাইকেল গোভ স্কুলগুলোকে এব্যাপারে আরো স্বাধীনতা দেন।

বাচ্চাদের হোমওয়ার্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এ প্রতিবেদনটি যিনি তৈরি করেছেন সেই ড্যামি রিনা কিবল বলছেন, আমরা বলছি না বাচ্চাদের হোমওয়ার্ক দেয়া যাবে না। কিন্তু যদি হোমওয়ার্ক দেয়া হয় তাহলে তা যেন বাচ্চারা ফলাফল বয়ে আনতে কোনো চাপ ছাড়াই তা শেষ করতে পারে এবং এ নিয়ে অভিভাবকরাও যেন দিশেহারা হয়ে না পড়েন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *