শিশুদের যেভাবে মগজ ধোলাই করছে আইএস জঙ্গিরা

THP_MDG_211116ISIS_19JPG রিবাতুল ইসলাম : বিরক্তিকর পাঠ্যক্রম তৈরি করে আইএস জঙ্গিরা শিশুদের মগজ ধোলাই করে সন্ত্রাসের তালিম দিচ্ছে। আর তা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ইসলাম ধর্মকে। আইএস জঙ্গিদের প্রণীত ইংরেজি ব্যাকরণ শিক্ষার ওই বইয়ের নাম দেয়া হয়েছে ‘কাবস অব দি খিলাফাত’ বা খিলাফতের শিশু। মাত্র ১১ বছরের কোমলমতি শিশুদের জন্যে এ ধরনের বইয়ে জিহাদ, বোমা, ফতুয়া, শহীদ, বিস্ফোরণের অপব্যাখ্যা দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকা-ে উৎসাহীত করা হয়েছে।

ব্রিটিশ মিডিয়া মিরর অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আইএস জঙ্গিদের স্কুল টেক্সটবুকে জিহাদিদের সম্পর্কে এক বিরক্তিকর অন্তর্দৃষ্টি বা অপব্যাখা করা হয়েছে। বইটির নাম হচ্ছে ‘ইংলিশ ফর দি ইসলামিক স্টেট’। বইয়ের ভেতরে একটি অনুশীলনে ছাত্রদের একটি প্রশ্নে জিজ্ঞেস করা হয়েছে সময় কত? বিভিন্ন সময়ের জন্যে ভিন্ন ভিন্ন টাওয়ার ক্লক বা ঘড়ির ছবির সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে ডিনামিট বা বিস্ফোরকের ছবি। যাতে শিশুরা প্রলুব্ধ হয়। THP_MDG_211116ISIS_18JPG

এছাড়া আরবী ভাষায় রচিত আরেকটি বইতেও বোমা, ফতুয়া, শহীদ ও বিস্ফোরক শব্দগুলো ব্যবহার করে অপব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এ বইটি ৭ থেকে ৮ বছরের শিশুদের জন্যে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব বই পাওয়া গেছে ইরাকের মসুল শহরে আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময়। মসুলের হায় আল-ইনতাসার এলাকায় অভিযান চলাকালে এসব বই দেখে হতবাক হয়ে পড়েন যৌথবাহিনীর সদস্যরা।

গ্রেড ফাইভের একটি বইতে শূণ্যস্থান পূরণ করতে বলা হয়েছে এভাবে: আই ক্যান শুট —– আই? যাতে শিশুদের কোমল হাতে পেন্সিলে লেখা শূণ্যস্থান পূরণ দেখা যাচ্ছে, আই ক্যান শুট ক্যান আই?
এধরনের আরেকটি শূণ্যস্থানপূরণে দেখা যাচ্ছে, এ্যান্ড ‘হি ক্যান বোম্ব, — হি?’

এছাড়া কিছু প্রশ্নোত্তর উল্লেখ করে শিশুদের তা পড়তে বলা হয়েছে। যেমন:
‘কাতাদাহ : তারা কোথায় যাইতেছে?’
‘আবু কাতাদাহ : তারা জিহাদে যাইতেছে।’
‘কাতাদাহ : কিন্তু এখন কি খুব গরম নয়?’
‘আবু কাতাদাহ : হ্যা, আমার প্রিয়, কিন্তু তাতে তারা কোনো অস্বস্তি বোধ করছে না।’

আরেকটি অনুশীলনে শিক্ষার্থীদের সঠিক বাক্য বাছাই করে বাক্যপূরণ করতে বলা হয়েছে।
যেমন, উসামা একজন যোদ্ধা। সে গুলিবর্ষণ করিতেছে ——?
যেসব শব্দ বাছাই করতে বলা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে, যুদ্ধের ময়দান, পার্ক ও বাজার।

বইটির আরেক পাতায় কয়েকটি দেশের নাম দিয়ে শব্দতালিকা দেয়া আছে। তাতে যেসব দেশে আইএস জঙ্গিদের সক্রিয় অবস্থান রয়েছে সেসব দেশের নাম রয়েছে। যেমন সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ব্রিটেন ইত্যাদি। এছাড়া শিশুদের কিভাবে আরো সন্ত্রাসী হিসেবে যুবক বয়সেই সক্রিয় করা যায় তা কৌশলে বইগুলোতে শেখানো হচ্ছে।THP_MDG_211116ISIS_20JPG

মসুলে আইএস জঙ্গিরা এসব বই শিশুদের ঘন্টার পর ঘন্টা পড়তে বাধ্য করত। মসুলে দশ লাখেরও বেশি মানুষ বাস করে। ২০১৪ সালে আইএস জঙ্গিরা শহরটি দখল করে নেয়। সেখানে হাজার হাজার শিশুর হাতে এধরনের ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও সন্ত্রাসে ইন্ধন যোগায় এমন বই তুলে দেয়া হয়।

গত এক মাস ধরে ইরাকি বাহিনী ও মিলিশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে মসুল প্রায় পুনর্দখল করে ফেলেছে। তবে আইএস জঙ্গিরা এখনো সেখানকার বাসিন্দাদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *