প্রবাসী বাংলাদেশীদের টার্গেট করলেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা : এ্যাটর্নি

NRB-News-pic-of-Attorney-moin-550x413এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ধর্ম ও জাতিগত বিদ্বেষমূলকভাবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের যদি হয়রানির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় তাহলে ইউএস সুপ্রিম কোর্টে মামলার হুমকি দিয়েছেন নবগঠিত কুইন্স ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী।

২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা ও ইউএস সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত এ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট (নির্বাচিত) ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী যা খুশী তাই করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা করেছে। ট্রাম্প যা খুশী তাই করতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট অবশ্যই সংবিধানকেই সমুন্নত রাখবে এবং সে পথেই আমরা হাঁটার পরিকল্পনা করছি।’

দু’দিন আগে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো এক সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসাংবিধানিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক পদক্ষেপকে আইনী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে প্রতিহত করার কথা বলেছেন।

এ্যাটর্নি মঈন বলেন, ‘তবে যারা অপরাধ করেছেন এবং একইসাথে যাদের অভিবাসনের বৈধতা নেই তাদের ব্যাপারে কিছুই করার নেই। প্রেসিডেন্ট ওবামাও গত ৮ বছরে এ ধরনের ৮ লক্ষাধিক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন’।
২১ নভেম্বর সোমবার ডেমক্র্যাটিক পার্টির কুইন্স কাউন্টির সম্মেলনে ডজনখানেক কংগ্রেসম্যান, স্টেট সিনেটর এবং স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ভোটে এই ডিস্ট্রিক্টেও লিডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান এ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। বিশ্বের ১৪২ দেশের মানুষ বাস করেন নিউইয়র্ক সিটির এই কুইন্স কাউন্টিতে। সেই কুইন্স ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার হিসেবে এ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসীদের জন্যে কী করবেন তাও উপস্থাপন করেন এ সময়।

এ্যাটর্নি মঈন বলেন, ‘যারা যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে চলছেন, যারা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, তাদের স্পর্শ করার অধিকার থাকবে না ট্রাম্প প্রশাসনের। এতদসত্বেও যদি বাড়াবাড়ি করার মত পরিস্থিতির অবতারণা হয়, তাহলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। আইনগত যুদ্ধে সামিল হয়ে সব ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করার সুযোগ রয়েছে।’

অভিবাসীদের ঢালাওভাবে গ্রেফতার বহিষ্কারের যে গুঞ্জন উঠেছে, সে প্রসঙ্গে ডেমক্র্যাটিক পার্টির এই নেতা বলেন, ‘অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যারা এখনও বিবেচনাধীন রয়েছেন অর্থাৎ যারা এখনও গ্রীনকার্ড পাননি কিন্তু ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে, তাদের কোনই ভয় নেই। তাদেরকে বহিষ্কারের কোন এখতিয়ার নেই। তারা যেন অযথা ভীতির মধ্যে নিপতিত না হন।’

এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্ধৃতি দিয়ে কেউ কেউ ভীতির সঞ্চার ঘটিয়ে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এহেন অপতৎপরতায় লিপ্তদের বিরুদ্ধে মিডিয়াকে আরো সোচ্চার থাকতে হবে। যারা লাইন্সেসধারী অনুবাদক কিংবা অভিবাসনের কাজের জন্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রাপ্ত অথবা যারা ইমিগ্রেশনের এ্যাটর্নি তাদের সাথেই সংশ্লিষ্ট সকলের যোগাযোগ রক্ষা করা উচিত। অন্য কারোরই আইনগত সহায়তা প্রদানের কোন এখতিয়ার নেই’।

প্রায় এক যুগেরও অধিক সময় যাবৎ ডেমক্র্যাটিক পার্টির বিভিন্ন কাজে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এ্যাটর্নি মঈন গত ৬ বছর যাবৎ জুডিশিয়াল ডেলিগেট হিসেবে নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্ট এবং সিভিল কোর্টের জজ নিয়োগের মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন তিনি নিজেই জজদের তালিকা চূড়ান্ত করার অধিকার পেলেন ডিস্ট্রিক্ট লিডার হওয়ায়।

নিউইয়র্ক অঞ্চলে প্রবাসীদের আমব্রেলা সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র ‘বোর্ড অব টাস্টি’র মেম্বার এ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিন্টনের প্রচার টিমের অন্যতম সদস্য ছিলেন। কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের প্রতিষ্ঠাতা কো-চেয়ার কংগ্রেসম্যান যোসেফ ক্রাউলিও এ্যাটর্নি মঈনকে ডিস্ট্রিক্ট লিডার হিসেবে নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে।

মিট দ্য প্রেসে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন ব্যবসায়ী-সমাজকর্মী সাঈদ রহমান মান্নান এবং এইচ এম লুৎফর রহমান লাতু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *