চীন থেকে বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্রয়ে বিরক্ত ভারত

Sputnik-Analysisস্পুটনিক বিশ্লেষণ: বাংলাদেশ চীনের কাছে থেকে ১৪ নভেম্বর দুইটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন ক্রয় করেছে বাংলাদেশ। আগামী বছর বাংলাদেশ নৌ বাহিনী এই সাবমেরিনগুলোকে কাজে লাগাবে। চীনের কাছ থেকে ক্রয় করা এই সাবমেরিনগুলো বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সাবমেরিন যা একই সঙ্গে টর্পেডো ও মাইন বহন করতে পারে।

বাংলাদেশের এমন পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠছে কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে একদিকে মিয়ানমার ছাড়া তিন দিকে ভারত বেষ্টিত। এই বিষয়ে ডিফেন্স নিউজ ভারতের বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। বিষেশজ্ঞরা বাংলাদেশের এমন উদ্যোগের জন্য ভারতের নীতি নির্ধারণীদের বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবধান কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

সমুদ্রসীমা নিয়ে প্রতিবেশি কোনো দেশের সঙ্গে আর কোনো বিভেধ নেই বাংলাদেশের। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে ২০১২ ও ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ সমাধান করেছে। সমুদ্রসীমা নিয়ে সব পক্ষ এখন সমাধানে এসেছে।

ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন একই সঙ্গে টর্পেডো ও মাইন বহন করতে সক্ষম। এটি শত্রু পক্ষকে লক্ষ্য করে আঘাত হানতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে যে কোনো দ্বন্দ্ব হলে তার জবাব দিতে পারবে।
ভারতের বিশেষজ্ঞ রাম প্রকাশের মতে, এই ধরনের খবর ভারতের সমুদ্র নিরাপত্তার বিরুদ্ধে গুজব। চীনের উপর নির্ভরশীল দেশগুলোর কাছে এই ধরনের যন্ত্রপাতি বিক্রি করা তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে রয়েছে। কারণ চীন ভারতকে ঘিরে ধরতে চায়। চীন ও ভারত দুই দেশেরই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র কারখানা রয়েছে বলেও জানান প্রকাশ।

ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ও অন্যতম অস্ত্র রফতানিকারক দেশ হতে চায় বলে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আঞ্চলিক বাজারে ভারত প্রতিযোগিতামূলকভাবে কাজ করছে বলেও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়।

বাংলাদেশ নৌ বাহিনী চীনের কাছ থেকে সামুদ্রিক অস্ত্রশস্ত্র ক্রয়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে তারা সর্বশেষ চীনের কাছ থেকে যে ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন ক্রয় করেছে তা আঞ্চলিক ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন ভারতের জওহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমেসি ও ডিসআর্মামেন্ট বিভাগের অধ্যাপক শরণ সিং।

শরণ সিং মনে করেন, সাবমেরিন স্থানান্তরের অর্থ হলো বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সামরিক সহায়তা বৃদ্ধি পাওয়া। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অস্ত্র বিক্রির প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন ভারতের এই বিষেশজ্ঞ।

ডিফেন্স নিউজ আরো জানায়, দিল্লির উচিৎ আঞ্চলিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বাজারে ভারতের পণ্য সরবরাহ করা। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পরিকর সামরিক সহায়তা বাড়াতে বাংলাদেশে সফর করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই দুই দেশের মধ্যে কোনো ভৌগলিক দ্বন্দ্ব নেই। তবে ভারত এখনো বাংলাদেশের সঙ্গে পানিবন্টন চুক্তি করেনি। এটি দিল্লির জন্য খুবই ব্যাঘাতজনক বলেও ডিফেন্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়।

ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো প্রবাল ঘোষ বলেন, যদি বাংলাদেশ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন ক্রয় করে থাকে তবে দেশটির সঙ্গে বোঝাপড়া করতে হবে ভারতের। যেহেতু বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশি দেশ তাই তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই চলতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে ঘাটতি রয়েছে তা কমিয়ে আনতে হবে। তাতে বাংলাদেশ নিয়ে চীন খেলতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *