প্রতিবাদি সিডনির দাবি প্রগতিশীল বাংলাদেশ

1-14-550x413সিডনি থেকে নিকেশ নাগ : সিডনির মেঘলা সকালটি আবেগ উত্তেজনা আর প্রতিবাদের ভাষায় হয়ে উঠেছিল অন্যধরনের। রোববার সকালে ছুটির দিনে কাজকর্ম ফেলে আসা শতশত বাঙালি তাদের প্রাণের টানে জড়ো হয়েছিলেন মার্টিন প্লেসে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও মূলধারার মুসলমানদের এই সমাবেশে বক্তারা নাসিরনগরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কঠিন মনোভাব ব্যক্ত করে বলেন, দেশকে নৈরাজ্য ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার এই চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুনে নীরব মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এই সমাবেশ পরিচালনা করেন অমিত সাহা, ড. স্বপন পাল ও প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রবীর মৈত্র। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন প্রবীণ অভিবাসী নজরুল ইসলাম, পূজা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুকুমার ভক্ত, প্রকৌশলী দিলীপ দত্ত, বৌদ্ধ সমিতির নীতিশ বড়ুয়া, লেখক শাখাওয়াৎ নয়ন, শিল্পী আহসান হাবিব, লেখক ড. রতন কুন্ড, ভাষা কর্মী নির্মল পাল, মাসিক মুক্তমঞ্চের সম্পাদক আল নোমান শামীম। বক্তারা অনতিবিলম্বে সরকারের কঠোর নীতি ও সংবিধান থেকে যাবতীয় ধর্মীয় উন্মাদনা ও অন্যায্য সংশোধনী প্রত্যাহারের দাবি জানান।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ রনেশ মৈত্র তার বক্তব্যে ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে সবাইকে সাবধান হবার তাগিদ দেন। জনপ্রিয় কলাম লেখক ও সাহিত্যিক অজয় দাশগুপ্ত তার আবেগঘন ভাষণে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সমাবেশের লাগোয়া লিনড ক্যাফেতেই ঘটেছিল সিডনি তথা অস্ট্রেলিয়ার ভয়াবহতম জঙ্গি হামলা। যে ঘটনায় দুজন নিরীহ পুরুষ ও নারী তাদের প্রাণ হারিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার যদি নাসিরনগর ও সাঁওতালদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হামলার বিচার না করেন এবং মালাউন বলার সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর না হন দেশের মূলধারার রাজনীতিই পথ হারাবে।

সমাবেশে আনিলা পারভীন ও মিতার বক্তব্যে ছিল ক্রন্দনের অভিব্যক্তি। যা সবাইকে অশ্রুসজল করে তোলে। সমাবেশের মধ্যমণি ছিলেন এমপি জুলিয়া ফিন। তিনি তার ভাষণে সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশিদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সমাবেশ শেষে ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। নীরবতা পালন করার পাশাপাশি ইসকনের ভক্তবৃন্দ সঙ্গীত পরিবেশন করেন। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করার মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি টানা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *