ধনী দেশের গরীবদের ঘুমাতে না পারার কাহিনী!

3ACE19C700000578-3976334-image-a-31_1480290697617 লিয়েদা: ওদের ঘুমানের কোনো জায়গা নেই। ধনী দেশের গরীবদের যা হয়। তো লিভারপুল ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের একটি ভবনের সামনে গত চার মাস ধরে তারা কোনো রকমে রাত কাটিয়ে আসছিল। বিধি বাম এখন স্থানটিকে ঢালে পরিণত করা যাতে কেউ শুতে না পারে। ৫১ বছরের জোয়েল লিঞ্চ ও ২৬ বছরের কেভিন জোসেফ সিমনর তাই আক্ষেপ করছিলেন। এতদিন কেউ অবশ্য তাদের অসুবিধায় ফেলেনি। সরে যেতে হত যদি পুলিশ এসে হুকুম দিত।

একেতো কঠিন শীত আর রাতে তা আরো জেঁকে বসে। লিভারপুলের ক্যাসেল স্ট্রিটে ওই ব্যাংক ভবনটির সামনেই তারা রাতের আস্তানা পেতেছিল। সকালে উঠে নিজেদের ঘর বাড়ির মতই পরিস্কার আর সুনসান করে রাখত স্থানটি, জানালেন কেভিন। সকালে পুলিশ এসে বলত উঠে পড়তে এবং মালসামানা বলতে কাঁথা বালিশ বা ছোট প্লাস্টিকের তাবুটি সরিয়ে নিতে । আমরা তাই করতাম। এই এলাকার সবাই আমাদের চেনে। কারো কোনো ক্ষতিও আমরা কোনদিন করিনি। আর স্থানটি কিছুটা ঢাল ধরনের হওয়ায় দিনের বেলা আমরা সেখানে বসতামও না।

ওরা দুজন একটা তাবু কিনতে পারে লোকজনের দেয়া সাহায্য থেকে। এখন ঘুমাতে হয় পাশেই আরেকটি রেস্টুরেন্টের পেছনে ডাস্টবিনের কাছে। কেভিন বলেন, এ ছাড়া কি আর করা, ঘুমানের কোনো জায়গা তো নেই আমাদের। রাতে ইঁদুরও আমাদের সঙ্গে ঘুমায়। ওদের মধ্যে জো এসেছে স্কটল্যান্ড থেকে। সেন্ট হেলেনে ১৫ বছর ধরে বাস করেছে সে। তারপর একদিন বাড়ি ঘর ছাড়া হয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ল। থাক ওসব কাহিনী। শুধু এটুকু বলল, এক পর্যায়ে ভাতা সহ সকল প্রাপ্য বন্ধ হয়ে গেল3ACE1A4B00000578-3976334-image-a-32_1480290704210

জো বলল, ভবনটির সামনে ঢাল তৈরি করার কি দরকার ছিল। তারা তো শুধু রাতের বেলা এখানে ঘুমাতে আসত। এই শহরে যত খালি ভবন আছে তা সংস্কারের প্রয়োজন নেই, শুধু যদি তাদের মত মানুষদের একটু থাকতে দেয়া হয় তো কিসের ক্ষতি? তবে লিভারপুল ব্যাংক ভবনটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেছেন এব্যাপারে তাদের কিছু জানা নেই। মিরর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *