সিল্ক রোডে ভারতের মনোযোগ

India-urged-to-focus-on-Silk-Route-connectivity-550x298রাজিব আহসান: এশিয়া-ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার জন্য চীনের সঙ্গে সিল্ক রোড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জোন। ভারতকেও এই প্রকল্পের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাগেশ কুমার বলেন, ‘ঐতিহাসিক সময়ের মতো দক্ষিণ এশিয়া এখনো একটি বিশাল বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এশিয়ার এই বাণিজ্যিক পথটি পুনরুদ্ধার করতে পারলে দক্ষিণ এশিয়া হবে পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র’।

সিঙ্গাপুরে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার প্রধান কার্যালয়ে ব্যবসায়িক ফোরামের এক আলোচনায় নাগেশ কুমার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এ দিকে ভারতকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। ভারী যানবাহন চলাচল চুক্তির কারণে সিল্ক রোডের পূর্বাঞ্চল ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ডের তিনটি মহাসড়ক দিয়ে খুব দ্রুত বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এখন সময় এসেছে ভারতকে সিল্ক রোডের পশ্চিমাঞ্চলে মনোযোগ দেওয়ার। তিনি বলেন, ‘আন্তজার্তিক উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের পরিবহণ করিডোর আইএনএসটিসি থেকে একটি আশাব্যঞ্জক প্রস্তাব এসেছে, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য-এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ইরানের বন্দর আব্বাস বা চবাহার বন্দরের মধ্য দিয়ে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

‘ইউএন-ইএসসিএপি’ও প্রস্তাব দিয়েছে এই কনটেইনার ট্রেন চলাচলের করিডোরটি যেন ইস্তাম্বুল-তেহরান-ইসলামাদের মধ্য দিয়ে দিল্লি-কলকাতা-ঢাকা এবং ইয়াংগুন পর্যন্ত বর্ধিত হয়। ’

নাগেশ কুমার আরো বলেন, এই দুটি করিডোর দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং ইউরোপের সঙ্গে খুব শক্তিশালী একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হবে, যা পূর্ব এশিয়ার সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করবে। দক্ষিণ এশিয়ার যে দেশগুলো প্রায় বিছিন্ন দ্বীপের মতো আছে, যেমন- আফগানিস্তান, মধ্য-এশিয়ার মধ্যে থেকেও দেশটি এখন পৃথিবী থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। দেশটিও এই বহুমুখী পথগুলো দিয়ে সমগ্র পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে।

১৯৪৭ সালে ইউএন-ইএসসিএপি গড়ে উঠার পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ভারতের শক্তিশালী সম্পর্কের কথাও নাগেশ কুমার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ১৯৭৭ সাল থেকে ভারত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার দশটি দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য। ভারতের টেকনোলজি উন্নয়নের অভিজ্ঞতা অন্যান্য উন্নায়নশীল দেশের জন্যও মূল্যবান হবে।

জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের আওতাভুক্ত এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলের এই প্রতিষ্ঠানটি ভারত ও তার আশেপাশের অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে আরো সুসম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য জোর দিচ্ছে। এ বিষয়ে নাগেশ কুমার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার যে দেশগুলো আরো উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের উন্নতির লক্ষ্যে আমাদের খুব সচেতন নিবিড় পর্যবেক্ষণ রয়েছে।’ দ্য স্টেটসম্যান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *