লাদেন পরিবারের ৩ সদস্য বিমান বিধ্বস্তে নিহত

MAIN-Bin-Laden-Banner-550x242নাজমা খাতুন : ব্রিটেনের হ্যাম্পশায়ারের ব্ল্যাকবুশ এয়ারপোর্টে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের সৎ মা, মেয়ে ও আরেক আত্মীয় মারা গেছেন। বেঁচে নেই বিমানটির পাইলটও। এরা হলেন ওসামা বিন লাদেনের সৎ মা রাজা বশির হাশেম (৭৫), মেয়ে সানা বিন লাদেন (৫৩) ও আরেক স্বজন জোহায়ের আনুয়ার হাশেম (৫৬)। বিমানটির পাইলট ছিলেন জর্ডানের মাজেন সালিম আলকাশিম (৫৮)।

সৌদি আরবে রেজিস্ট্রিকৃত ও লাদেন পরিবারের নিজস্ব ফেনেম ৩০০ বিমানটিতে ৩ জন আরোহী ছিলেন। ওই বিমান বন্দরের রানওয়েতে নামার ঠিক পূর্ব মূহুর্তে বিমানটি গাড়ি রাখার স্থানে বিধ্বস্ত হলেও পাইলট সহ আরোহীরা বেঁচে ছিলেন কিন্তু গাড়িগুলো থেকে আগুন বিমানটিতে ছড়িয়ে পড়লে সবাই মারা যান।

অবতরণের আগে বিমানটির গতিবেগ স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ ভাগ বেশি ছিল। তবে বিমানটির পাইলট অবতরণের সময় অন্য গন্তব্যে ফের উড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দি এয়ার এ্যাক্সিডেন্টস ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ (এএআইবি) বলছে, পাইলটের যথেষ্ট দক্ষতা ছিল। তবে অবতরণের ঠিক আগ মুহুর্তে ফের অন্যত্র উড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পাইলট অতিরিক্ত চাপে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবতরণের সময় পাইলট বিমানটির স্পিডব্রেক কষলেও দুটি ডানা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অবতরণের আগ পর্যন্ত বিমানটি ১৫১ নট দূরত্ব অতিক্রম করে আসে কিন্তু এর গতিবেগ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ ভাগ বেশি। রানওয়ে থেকে ৪৩৮ মিটার দূরে বিমানটি পার্কিং লটে পড়ে যায়। তবে বিমানটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না, পাইলটের শরীরেও কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি যা তাকে বিমান চালনার সময় অস্বাভাবিক করতে পারে এমনকি আবহাওয়া ছিল চমৎকার। ওসামা বিন লাদেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নাইন ইলেভেন হামলার পরিকল্পনাকারী বলা হত। ২০১১ সালে পাকিস্তানের এ্যাবোটাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের এক কমান্ডো হামলায় তিনি নিহত হন। ওসাম বিন লাদেনের অন্তত ৫০ জন ভাইবোন এবং একাধিক সৎ মা রয়েছে। তার কোটিপতি পিতা মোহাম্মদ সৌদি আরবে শীর্ষ একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন এবং ১৯৬৭ সালে তিনি এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।

বিন লাদেনের পরিবার ওসামা বিন লাদেনকে জঙ্গি তৎপরতার জন্যে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। ১৯৯৪ সালে একই কারণে সৌদি আরব তার নাগরিকত্ব বাতিল করে। মিরর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *