পাল্টে গেছেন সুচি

Rohingye people, a Muslim population, living in Rakhine State on the northwest coast of Burma have been restricted to their villages and placed in Internally Displaced Peoples (IDP) camps by the Burmese government. They have been the victims of persecution and communal violence by numbers of the Buddhist majority in Rakhine. International NGO's such as MSF have been expelled by the government, leading to a soaring crisis in health care. Photograph by James Nachtwey.

Rohingye people, a Muslim population, living in Rakhine State on the northwest coast of Burma have been restricted to their villages and placed in Internally Displaced Peoples (IDP) camps by the Burmese government. They have been the victims of persecution and communal violence by numbers of the Buddhist majority in Rakhine. International NGO’s such as MSF have been expelled by the government, leading to a soaring crisis in health care.
Photograph by James Nachtwey.

রাশিদ রিয়াজ : শান্তিপূর্ণ এশিয়া বলা চলে অশান্ত হয়ে উঠেছে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি অং সাং সুচির মৌনতার কারণে। পশ্চিমা বিশ্বের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভরসা রাখতে পারছেন না সুচির ওপর। মিয়ানমার থেকে বিবিসির জোনা ফিশার জানিয়েছেন, সুচিকে নিয়ে বিদেশী কূটনীতিকদের মনোভাব দ্রুত বদলাচ্ছে।

রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞে একেবারেই নিশ্চুপ রয়েছেন সুচি। কিন্তু কেন? এর কোনো সদুত্তর নেই। তার এই মৌনতা নিয়ে যে সংশয় ছিল তার কারণে সুচির বিপক্ষে কেউ কোনো কথা বলেননি। কিন্তু কূটনীতিকদের অনেকেই এখন বিস্মিত হচ্ছেন যে রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সুচি একই সুরে কথা বলছেন।

সেনাবাহিনী রাখাইনে যা করছে তার নিয়মিত ফিরিস্তি সুচির সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। সুচি তা কবুল করে নিচ্ছেন। তাই রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ থামছে না, নারী ধর্ষিতা হচ্ছে এবং হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসছে। পাল্টা সুচির অফিস থেকে নিয়মিত ব্যাখ্যা দেওয়া হচেছ যে সেনাবাহিনী আইন মেনেই কাজ করছে। কোনো নির্যাতন তারা করছে না। বরঞ্চ রোহিঙ্গারাই তাদের বাড়িতে আগুন দিচ্ছে।

এদিকে সুচিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের পর দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান (আর্মড ফোর্সেস চিফ) জেনারেল জুলকিফেলি মোহাম্মদ জিন ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল রাজা মোহাম্মদ আফান্দি রাজা মোহামেদ নূর হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তার কারণেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইএস জঙ্গিদের বিস্তার ঘটতে পারে। মালয়েশিয়ার সেনাবাহিনী প্রধান এও বলেছেন, জাতিসংঘ চাইলে মিয়ানমারসহ যেকোনো দেশে টালমাটাল অবস্থায় শান্তিরক্ষী পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে তার দেশ।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা কি দেশটি সহ এ অঞ্চলে আইএস জঙ্গিদের তৎপরতার ক্ষেত্র প্রস্তত করছে? এমন দুশ্চিন্তা রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে শুরু করে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর। কিন্তু সুচি কিছুতেই কান দিচ্ছেন না। ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুরের আইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে শানমুগাম বিদেশি সংবা“াতাদের কাছে বলেছেন, ইরাক ও সিরিয়া পরিস্থিতির পর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় আইএস জঙ্গিদের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে অন্তত ১ হাজার তরুণ আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে।

সিঙ্গাপুরের আইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে শানমুগাম বলেন, তিনভাবে আইএস জঙ্গিরা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিস্তার ঘটাতে পারে। যারা আইএস জঙ্গি তৎপরতায় যোগ দিতে গিয়েছে তারা ব্যর্থ হয়ে নিজ দেশে ফিরে এসে ফের সন্ত্রাসী কর্মকা- ঘটাতে পারে। চাকু, যানবাহন সহ নানা ধরনের উপকরণ তারা এ ধরনের সন্ত্রাসে ব্যবহার করতে পারে। দুই, ইরাক ও সিরিয়া থেকে নিজ দেশে ফিরে আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ দেয়া সন্ত্রাসীরা ফের সক্রিয়া হয়ে উঠতে পারে। তিন, অনলাইনে যারা এখনো আইএস জঙ্গিদের তৎপরতা অনুসরণ করছে তারাও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়তে পারে।

গত জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়ায় আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে এমন সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে অন্তত ৭ ব্যক্তি নিহত হয়। এরপর পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করে যারা আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছে, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সেনা অভিযানে ঘরবাড়িছাড়া হাজারও রোহিঙ্গা মুসলিম চরমপন্থার দিকে ঝুঁকতে পারে। এ ছাড়া এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ধর্মীয় উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পূর্ব এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যানিয়েল রাসেল এ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এতে দেশটিতে জিহাদি চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

সীমান্তের কাছাকাছি রাখাইনে এধরনের জিহাদ দেখা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশও। যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলার চেষ্টা করছে বাংলাদেশে আইএস জঙ্গি তৎপরতা রয়েছে। যদিও সরকার এধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা-সংকট নিয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আহ্বান জানাতে প্রতিবেশী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ড্যানিয়েল রাসেল। তিনি বলেন, এসব দেশের আহ্বানের জেরে ধর্মীয় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। রাখাইনের পরিস্থিতি ঠিকমতো সামাল দিতে না পারলে জিহাদিরা সুযোগ নিতে পারে। তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে এসব ব্যাপারে যেন কোনো মাথা ব্যথা নেই মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সাং সুচির। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ডেভিড ম্যাথিসন বিবিসিকে বলেন, মানবাধিকারের রক্ষক হিসাবে যে উঁচু অবস্থান তার ছিল, তা থেকে অং সান সূচি অনেকটাই সরে গেছেন। তিনি কঠোর একজন রাজনীতিবিদ যাকে নির্মম একটি রাজনৈতিক পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে এবং সেনাবাহিনীর মত নির্মম একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা করে চলতে হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি — যে মূল্যবোধ তিনি ধারণ করতেন, তাকে তিনি সরিয়ে রেখেছেন। সুচি চাপের ভেতর পড়েছেন। সেনাবাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে একটি কমিশন গঠন করতে যেয়ে তার প্রধান করেছেন এমন একজন সিনিয়র জেনারেলকে যিনি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জাফরান বিপ্লবে গুলি চালানোর হুকুম দেয়ায় জাতিসংঘ তাকে কালোতালিকাভুক্ত করে রেখেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *