ঘরে সময় দিন, না হলে পাখি উড়ে যাবে!

3AB3D6F300000578-3966180-image-a-9_1479947130572  নুবালা তুনাজ্জিনা : শুন্য স্থান পূরণ করার সয় এসে যেতে পারে কিন্তু, সাবধান? এক জরিপে দেখা যাচ্ছে আপনি যদি আপনার ঘরে প্রিয়জনকে সময় না দেন তাহলে তার মনে এক ধরনের শূন্যস্থান সৃষ্টি হতে পারে এবং সে শুন্যস্থান অন্য কেউ এসে পূরণও করতে পারে? কি সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার মনে করছেন? পশ্চিমা সমাজে এ সমস্যা প্রবল হয়ে উঠছে। ঘরে সন্তান নেই বা একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে পরিবারগুলো টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ায় অন্য দিকে নজর দেয়ার সময় নেই আবার মন একাকিত্বে ভরে থাকে বলে অন্য কেউ এসে সে মনে নজর ফেলছে এমন ঘটছে। এমন বলা হচ্ছে যারা ঘরে স্ত্রীকে টুকিটাকি কাজ সময় দেন তাদের মধ্যে যৌনতা বেশ মধুর হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যৌনতার কি সম্পর্ক? গবেষকরা বলছেন, টুকিটাকি কাজের মধ্যে দিয়ে একধরনর চমৎকার সম্পর্ক গড়ে ওঠে যা বেশ মানানসই হয়ে ওঠে দুজনের বোঝাপড়ায়। এতে যৌনতার সময় একটা আবেগ নির্ভর সম্পর্ক কাজ করে।

গ্লিডেন নামে একটি ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যানে ১০ হাজার নারীর কাছে প্রশ্ন রেখে জানা গেছে তাদের ৭২ ভাগ নারী নিজেদের পুরুষদের কাছে ঘরে যথেষ্ট সময় না পেয়ে অন্যের প্রতি ঝোঁক বেড়েছে এবং এক পর্যায়ে তাদের প্রতি আসক্ত হয়ে গেছেন। সম্পর্ক ভেঙ্গেছে কিংবা দুজনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছেন। এধরনের সম্পর্ক তাদের মনে এক ধরনের দুশ্চিন্তা ও বিশ্বাসভঙ্গের চাপ তাদের বিবেকে রেখাপাত করলেও তারা তা থেকে সহজে বের হতে পারছেন না।

আরেক জরিপ বলছে যে সব ব্যক্তি তাদের পার্টনারদের ঘরে টুকিটাকি কাজে সাহায্য করেন তাদের মধ্যে যৌনতা অনেক বেশি জমে ওঠে। আর সম্পর্কে অখুশি হলে তা মনকে কুড়ে কুড়ে খেতে খেতে এক সময় অন্যের প্রতি দৃষ্টি ফেলতে ধোকা দেয়। এক পর্যায়ে তারা নিজেকে সামলে রাখতে পারেন না। যদিও পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ আর শ্রদ্ধার ঘাটতি থেকে এধরনের সমস্যা হতে পারে তারপরও নিজের মানুষের প্রতি নজর না দিয়ে অন্যের প্রতি নজর দেয়ার খাসিলত থেকেও এধরনের সমস্যা হতে পারে।3AB3D52A00000578-3966180-image-a-8_1479946664594

তবে পরিসংখ্যান বলছে, পুরুষরাই বেশি বিশ্বাসঘাতকতা করেন সম্পর্কের টানাপড়েনে কিন্তু মেয়েরাও কেন বাধ্য হয়ে বিপথগামী হয় তার একটি প্রধান কারণ হচ্ছে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক চিড় ধরার একটা কারণ হচ্ছে পরস্পরের প্রতি অমনোযোগী হয়ে ওঠা। ওয়েবসাইট গ্লিডেন কিন্তু সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১০ হাজার নারীর কাছ থেকে প্রশ্নোত্তর নিয়েছে এবং দেখেছে ঘরে অমনোযোগিতা থেকেই কিভাবে আরেকজনের প্রতি আগ্রহ বা উস্কানিতে মন সাড়া দেয়।

ফ্রান্সের নিউজ সাইট লা বনবন বলছে উত্তরদাতাদের ৭২ ভাগ নারী বলছেন তাদের পার্টনাররা ঘরে তাদের যথেষ্ট সময় দিতেন না। কোনো কাজেও সহযোগিতা করতেন না। এদের মধ্যে ১৮ ভাগ নারী বলছে তাদের পার্টনারদের প্রতি একই কারণে তারা যৌন সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কারণ সাহায্য করার ব্যাপারটি তাা কখনোই পার্টনারদের মনে কাজ করতে দেখেননি। অনেকে আবার বলেছেন, অন্যের প্রতি তীব্র আগ্রহ গড়ে ওঠার কারণেই তারা তাদের পার্টনারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে বাধ্য হয়েছেন। আর ৩১ ভাগ নারী বলছেন, ঘরে সময় দিলেও তাদের প্রতি কোনো গ্রাহ্য না করার বিষয়টি তাদেরকে অন্যের প্রতি ঝুঁকতে সাহায্য করেছে।

একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি রেডইট থ্রেড সংগৃহীত এক জরিপে। অনেকে বলেছেন, তাদের প্রতি পার্টনারদের একধরনের উন্নাসিকতা বা অনাগ্রহে তারা নতুন কাউকে খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করেছেন এবং এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে ভালবাসায় জড়িয়ে পড়ে যৌন সম্পর্ক গড়েছেন।

কেন স্বামীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, জানতে চাইলে এক নারী বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে প্রায় ৫ বছর ধরে স্পর্শ করেনি। এবং এ অবহেলার শেষ ছিল না। আমি এ অনাগ্রহ সহ্য করতে পারিনি। ফলে আমি নতুন সম্পর্ক স্থাপন করেছি।
আরেক নারী বলেছেন, আমি আমার পার্টনারকে নিয়ে সুখী নই। সে আমার প্রতি কোনো মনোযোগ দেয় না। মানসিক ও আবেগের দিক থেকে এমনকি শারীরিকভাবে আমার চাওয়া সে পূরণ করেনি। আমি তাকে ভালবাসি কিন্তু আমি এও অনুভব করি যেন সে সময় কাটাতেই আমাকে শুধু কাছে রাখে বা আমার কাছে থাকে আর কিছুই নয়।3AB3D6E300000578-3966180-image-a-10_1479947138662

আরেকটি সাধারণ ঘটনা হচ্ছে, দুজনের মধ্যে খারাপ সম্পর্ক বা বনিবনা না হওয়ার সম্পর্কে উন্নতি না হওয়া। এক নারী বলেন, আমাদের সম্পর্ক এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে যে তার ব্যাপারে আমার মন উঠে গেছে, যেমন তার আমার প্রতি আর কোনো সহানুভূতি নেই। আমি বিকল্পের সন্ধান করতে যেয়ে ভালবাসার মানুষ পেয়ে গেছে এবং আমি তার প্রেমে পড়ে গেছি। এখন আমি পরিকল্পনা করছি কিভাবে সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলা যায়।

ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টার আরেক জরিপে দেখা গেছে যে সব ব্যক্তি তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ঘরের কাজে সহায়তা করে তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক শুধু ঘনঘন হয় না, তা হয় খুবই সফল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *