প্রতিবন্ধীর কাছে মেয়েকে বিয়ে, বরের বোনকে বিয়ে করলেন বাবা

১৩ বছরের পাকিস্তানি কিশোরী সায়মাকে কানে শোনে না ও কথা বলতে পারে না এমন প্রতিবন্ধীর কাছে বিয়ে দিয়ে তার বোনকে বিয়ে করলেন মেয়েটির বাবা। পাকিস্তানে এধরনের বিয়ে অনেক সময় ঋণ শোধের বিনিময়েও হয়ে থাকে। মেয়েটির বয়সে বরের বয়স তিনগুণ বেশি। তার নাম মোহাম্মদ রমজান। মেয়েটির বাবা ওয়াজির আহমেদ রমজানের বোন সাবিলকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন পুত্র সন্তানের আশায়। নাজির আহমেদ এধরনের শর্ত সাপেক্ষ বিয়েকে তাদের অধিকার হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

পাকিস্তানের দক্ষিণ পাঞ্জাবে এধরনের বিয়েয়ে উর্দুতে ‘ওয়াত্তা সাত্তা’ অর্থাৎ দেয়া ও নেয়া। তবে কিশোরী সায়মা ও তার বাবা এধরনের বিয়েকে ভাগ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। ওয়াজিরের কাছে তার মেয়ের চেয়ে ছেলেটির তিনগুণ বেশি বয়স অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। তবে ষোল বছরের আগে সায়মার বিয়ে পাকিস্তানি আইনে অবৈধ বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ ওঠায় এ বিয়ের তদন্ত চলছে। সায়মা পিতা ও বরের বিপদ থেকে রক্ষায় তার বয়স বাড়িয়ে পুলিশের কাছে ষোল বলেছেন। এপরই আদালত সায়মার পিতা ও বরকে জেল থেকে মুক্তির নির্দেশ দেয়।

সায়মার মা জান্নাত তার মেয়ে ও স্বামীর এ বিয়ে মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, মেয়ে বড় হলে বিয়ে না দিলে তা মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দারিদ্র ও কুসংস্কার যুক্ত সমাজে একজন স্ত্রী সন্তান জন্ম দেবে এবং মা হবে এটাই যেন তার নিয়তি। এ সমাজে নারীর নিরাপত্তা এতই কম যে বাইরে তারা একা বের হতে ভয় পায়। মেয়েরা মাথার বোঝা হলেও ছেলেরা এ সমাজে সম্পদের মালিক হয়। জান্নাত আরো বলেন, স্বামীকে পুত্র সন্তান দিতে না পারা বরং তারই দোষ। এ লজ্জায় আমি আমার স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে বলেছি।

এদিকে ওয়াজিরের নতুন স্ত্রী সাবিল বলেন, তার প্রতিবন্ধী ভাইয়ের একজন স্ত্রী প্রয়োজন ছিল, এজন্যেই তিনি এ বিয়েতে রাজি হয়েছেন। কেউ ইচ্ছায় আমার প্রতিবন্ধী ভাইয়ের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হত না। তবে সায়মার প্রতিবন্ধী বর রমজান বলেন, কনের বয়স কম হওয়ার কারণে তিনি এ বিয়ে করতে চাননি। সবাই বলেছে, বিয়ে করতেই হবে। তাই এ বিয়ে করেছেন তিনি। সায়মা এও জানান, তার বাবা ও রমজানের বোন প্রেমে পড়েই তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমার বিয়ের ব্যাপারে বাবার ইচ্ছেই চূড়ান্ত। রমজানের মনে এমন আশঙ্কা কাজ করে যে সায়মা হয়ত তাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে, আকারে ইঙ্গিতে সে জানায় সায়মা তা করলে খোদা তার ওপর রুষ্ট হবেন। এ্রই মধ্যে সায়মা গর্ভবতী হলেও পাঁচ মাসে সে গর্ভপাতের শিকার হয়। সায়মা এও জানান, তিনি তার স্বামী রমজানকে ছেড়ে কখনো চলে যাবেন ন্। মিরর/ডেইলি মেইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *